খাগড়াছড়িতে অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত ৬

28
খাগড়াছড়িতে অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত ৬

দেশজুড়ে ডেস্ক: খাগড়াছড়িতে পাহাড়ীদের সংগঠন ইউপিডিএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে বন্দুকধারীদের হামলায় ছয় জন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন অন্তত তিন জন।

শহরের স্বনির্ভর বাজার এলাকায় সকাল পৌনে ৮টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, পাহাড়ি সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) প্রসীত গ্রুপের লোকজন সকালে একটি সমাবেশ ও মিছিল উপলক্ষে জড়ো হচ্ছিলেন।

এ সময় অস্ত্রধারীরা পাশের একটি পুলিশ বক্স, সিএনজি স্ট্যান্ড এবং ইউপিডিএফের কার্যালয়ের সামনে জটলা লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। যা চলে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে।

এতে ইউপিডিএফের সদস্যসহ সাধারণ পথচারী হতাহত হন।

পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সাত জনতে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছয় জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে আরও কয়েকজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান হাসপাতালে হতাহতদের খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি গুরুতর আহতদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

ইউপিডিএফের প্রতিপক্ষ জন সংহতি সমিতি জেএসএস এর সংস্কারপন্থী অংশ (এম এন লারমা গ্রুপ) – ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক অংশ-বর্মা গ্রুপ হামলায় জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

তবে এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে বলে জানান তারা।

নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- তপন চাকমা, এল্টন চাকমা ও জিতায়ন চাকমা।

এর মধ্যে তপন চাকমা ইউপিডিএফ সহযোগী সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং এল্টন চাকমা একই সংগঠনের সহ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

আর জিতায়ন চাকমা উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানায় পুলিশ।

এছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে সোহেল চাকমা, সমর বিকাশ চাকমা ও সখিডন চাকমাকে। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আধিপত্য বিস্তারের নাকি অন্য কোন কারণে এই হামলা হয়েছে সেটা তদন্তের নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি সদর থানার পুলিশ সুপার আলী আহমদ।

একে পূর্ব পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের মুখপাত্র মাইকেল চাকমা ।

তিনি বলেন, “হামলাটি হয়েছে বিজিবি সেক্টর গেটের কাছাকাছি যেখানে সবসময় ছয় সাতজন অস্ত্রধারী জোয়ান থাকেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনা সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এমন সুরক্ষিত একটি স্থানে এতোজন অস্ত্রধারী গুলি চালিয়ে চলে গেল, আর তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হল না। এছাড়া ঘটনাস্থলে পুলিশ বক্সে হামলার যে দাবি পুলিশ করেছে তাহলে তারা পাল্টা কোন ব্যবস্থা কেন নেয়নি?”

তবে ইউপিডিএফ এই হামলার পেছনে জেএসএস-এমএন লারমা গ্রুপের সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ করেছে সে বিষয়ে জেএসএসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজী হননি।

বর্তমানে হামলা স্থলে বিজিবি সদস্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলে পুরো শহরেই পরিস্থিতি থমথমে হয়ে আছে বলে জানা গেছে।

ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সদস্যরা পাহাড়ে গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিলের প্রস্তুতি নেয়ার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

সূত্র: বিবিসি

আপনার মন্তব্য