ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ১৫!

10
বগুড়ায় আওয়ামীলীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

দেশজুড়ে ডেস্ক: আধিপত্য বিস্তার ও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা ইউনিয়নে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার নদনা বাজারে অগ্রনী ব্যাংক চত্ত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে ও ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে আটক করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, সোনাইমড়ী উপজেলার নদোনা ইউনিয়নের উত্তর শাকতলা ও দক্ষিণ শাকতলা গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মাধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নদোনা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, কয়েকদিন আগে জাগ্রত উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জনতার আদালত নামের দুইটি ফেসবুক আইডি থেকে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের মৃত ছায়েদুল আলীর ছেলে ও নদনা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবু ইউছুফ রোববার রাতে মোবাইলে রিচার্জ করার জন্য নদনা বাজারের অগ্রণী ব্যাংক এলাকায় আসেন।

এসময় ২০-৩০ জনের একদল মুখোশ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ইউছুফের ওপর অর্তকিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। পরে হামলার খবর দক্ষিণ শাকতলা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয় গ্রামের লোকজন নদনা বাজারে এসে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষকারীরা পাল্টাপাল্টি বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের ২টি পিকআপ ভ্যান ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং তছলিম নামের এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৮ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে ও অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহত আবু ইউছুফকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল এবং রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নদনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তর ও দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সামাদ বলেন, যুবলীগ নেতা ইউছুফের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংঘর্ষকারীরা পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের দু’টি ভ্যানের ক্ষতি হয় ও তছলিম নামের এক কনেস্টবল আহত হন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। হামলাকারীদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চাটখিল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মিনতানুর রহমান বলেন, পুলিশের গাড়ি ও পুলিশ সদস্যের উপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আপনার মন্তব্য