রমেক হাসপাতালে প্রসূতির গোপনাঙ্গে সুঁই-সুতা রেখে সেলাই!

152

দেশজুড়ে ডেস্ক: স্বাভাবিক প্রসবের জন্য আফরোজা বেগমের (১৯) নামের এক প্রসুতির গোপনাঙ্গ কেটেছিলেন চিকিৎসক। 

পরে ফুটফুটে এক কন্যা শিশুর জন্ম হয়।  কিন্তু অপারেশনের পর জটিলতায় পড়েন প্রসূতি। 

পরে রোগ নির্ণয়ে গিয়ে ধরা পড়ে- গোপনাঙ্গে রয়ে গেছে সুঁই-সুতা।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলে চাঞ্চল্য ছড়ায় পুরো এলাকায়। 

এর আগে গত ২০ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অপারেশন করান ওই প্রসূতি।

অভিযোগ উঠতেই, বেরিয়ে পড়েছে থলের বিড়াল! চিকিৎসক নন- ওই অপারেশন করেছেন এক নার্স। তার ভুলেই এই প্রসূতির এই অবস্থা।

গত দুই দিন ধরে হাসপাতালে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন ওই প্রসূতি। এ ঘটনায় দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

প্রসূতির খালা শ্বাশুড়ি রনজিনা আক্তার জানান, প্রসব ব্যথা উঠলে বিকেল ৩টার দিকে ওই প্রসূতিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন স্বজনরা। ওইদিন রাত পৌনে ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।

স্বাভাবিক ডেলিভারির জন্য আফারোজার গোপনাঙ্গ কেটে কন্যা সন্তান প্রসবের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

কিন্তু অপারেশনের পর থেকেই অসহ্য ব্যথায় ছটফট করতে থাকেন আফরোজা। শুরু হয় রক্তক্ষরণ। একপর্যায়ে বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তারা বৃহস্পতিবার সকালে এক্সরে করার পরামর্শ দেয়। 

তাদের পরামর্শে মেডিকেলের বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে এক্সরে করালে আফরোজার গোপনাঙ্গের ভেতর সুই-সুতা পাওয়া যায়।

আফরোজার নানি শ্বাশুড়ি রেজিয়া বেগম অভিযোগ করেন, অপরারেশন থিয়েটারে কোনো চিকিৎসক তার অপারেশন করেননি। নার্স দিয়ে অ

পারেশন করা হয়েছে। এ সময় আফরোজা ব্যথায় ছটফট করতে থাকলে তাকে চড়-থাপ্পড়ও মারেন কর্তব্যরত নার্সরা।

ভুক্তভোগী আফরোজা বলেন, ব্যথায় ছটফট করলেও কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকরা তার কথা শোনেননি। উল্টো অপারেশন থিয়েটারেই তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন কর্তব্যরত নার্সরা।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শারমিন সুলতানা লাকী বলেন, ভুলক্রমে এটা হয়েছে। রোগীর সুচিকিৎসায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তবে দাপ্তরিককাজে ঢাকায় অবস্থান করায় নিয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সুলতান আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

আপনার মন্তব্য