লকডাউনের মধ্যেই পরীক্ষায় অংশ নিতে মাইকিং, বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক

11

দেশজুড়ে ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের মধ্যেই বিদ্যালয়ের মূল্যায়ন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে মাইকিং করার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার জেঠাগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়য়ের প্রধান শিক্ষক সৌকত ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমববার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। তবে ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক পলাতক রয়েছে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিদ্যালয়ের মূল্যায়ন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে প্রধান শিক্ষক সৌকত ইসলামের নির্দেশে জেঠাগ্রামে মাইকিং করা হয়। ওইদিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অটোরিকশায় করে এক যুবক মাইকিং করেন। মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেয়ার পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের অর্থ নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। মাইকিং অনুযায়ী সোমবার সকাল ১০টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ায় শনিবার রাতেই পুনরায় মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে বারণ করা হয়।

নাসিরনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় আমরা সরাসরি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। সেজন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে বলার পর কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

জানা গেছে, ২০০৫ সালে প্রায় ১০০ শতক জায়গার উপর জেঠাগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১৯ জন। বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ১৪ জন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত আটটা থেকে নয়টার মধ্যে উপজেলা প্রশাসন প্রধান শিক্ষকের মাইকিংয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমা আশারাফী সঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম ও নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমানকে নিয়ে রাত ১১টায় জেঠাগ্রামে উপস্থিত হন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্বাস উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরিচালনা কমিটির অনুমতি ব্যতিত এমনটি করায় প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরাখাস্ত করা হয়। এ দিকে একাধিকবার চেষ্টা করে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ সৌকত ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমা আশরাফী জানান, বিষয়টি জানতে পেরেই রাতেই গোকর্ণ ইউনিয়নে যাই। রাত দেড়টা থেকে সেহরী পর্যন্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের মাইকিংটি সঠিক নয় বলে আশপাশের একাধিক মসজিদের মাইকের মাধ্যমে জানানো হয়।

আপনার মন্তব্য