স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা দেখিয়ে বেতন তোলেন প্রধান শিক্ষক !

10
স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা দেখিয়ে বেতন তোলেন প্রধান শিক্ষক !

দেশজুড়ে ডেস্ক: এক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুর হোসেন স্কুলে অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন। স্কুলের হাজিরা খাতায় তিনি উপস্থিত দেখিয়ে সরকারি কোষাগারের নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একাধিকবার স্কুল পরিদর্শনকালে ওই প্রধান শিক্ষককে স্কুলে পান নি।

ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ ফ্যাশন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহাবুবুর রহমান প্রধান শিক্ষকের আপন ভ্রাতা।

এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর অনুপস্থিত ও নিয়মিত খাতায় স্বাক্ষর দেখিয়ে বিল ভাতা উত্তোলনের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকার পৌর কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মনজু অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরেছে।

পারিবারিক ম্যানেজিং কমিটি এবং প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বে-সরকারি চাকরিবিধি লঙ্গন করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।

এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, প্রধান শিক্ষকের কর্মস্থলে টানা অনুপস্থিতি ও অনিয়মের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহাবুবুর রহমান প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত অনুপস্থিতি ও অনিয়মের ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।

প্রধান শিক্ষক মনজুর হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে পরিবার পরিজনসহ বরিশালে অবস্থানের কারণে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হতে পারি না।

তবে বিল-বেতনসহ প্রাতিষ্ঠানিক কাজে স্বাক্ষর তার নিজের বলে স্বীকার করেন। প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে কোন দুর্নীতি ও অনিয়মে আশ্রয় নেন নি। বছরের পর বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির অভিযোগ সত্য নয়

আপনার মন্তব্য