হাতীবান্ধায় মসজিদ নির্মাণে বিএসএফের বাধা

139

দেশজুড়ে ডেস্ক: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় মসজিদ নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। 

বড়খাতা দোলাপাড়া সীমান্ত এলাকায় কেরামতিয়া বড় মসজিদের দুই তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। 

শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জানালার নির্মাণ কাজে বাধা দেয় শিতলকুচি থানার অমিত ক্যাম্পের বিএসএফের একটি টহল দল। এ ঘটনায় মুসল্লিদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।

নামাজ পড়তে আসা আসাদুল ইসলাম জানান, জন্মের পর থেকেই দেখছি, কেরামতিয়া হুজুরের মাজার ও মসজিদকে ঘিরে এখানে প্রতি শুক্রবার নারী ও পুরুষ আলাদাভাবে নামাজে সমাবেত হন। 

কিন্তু, দুই দেশের রাষ্ট্র পর্যায়ে নকশা অনুমোদন হওয়ার পরও শুক্রবার দেখলাম, বিএসএফ বাংলাদেশে প্রবেশ করে নির্মাণ কাজে বাধা দিচ্ছে। এতে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের নামাজ পড়তে সমস্যা হচ্ছে।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলিমুদ্দিন জানান, দুই দেশের মধ্যে নকশা অনুমোদন হওয়ার পর আমরা মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করি। কিন্তু, প্রায় সময় ভারতীয় বিএসএফ নানা অজুহাতে নির্মাণ কাজে বাধা দেয়। জানালায় রঙিন গ্লাস লাগাতে বাধা দিলে আমরা সাদা গ্লাস লাগাতে শুরু করি। 

কিন্তু, শুক্রবার সেই গ্লাস লাগাতেও বাধা দেওয়া হয়। প্রতি শুক্রবার এ মসজিদে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত-শত নারী-পুরুষ বিভিন্ন নিয়তে নামাজ পড়তে আসেন।

রংপুর-৬১ বিজিবির বড়খাতা কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইব্রাহিম মোল্লা জানান, ভারতীয় বিএসএফ মসজিদের নির্মাণ কাজে বাধা দিলেও নির্মাণ কাজ বন্ধ নেই। 

ভারতীয় বিএসএফ আমাদের সঙ্গে মসজিদের নির্মাণ কাজ ঘুরে দেখেছে। এখন নির্মাণ কাজ চলছে। এই বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।

জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের দোলাপাড়া সীমান্ত এলাকায় মোঘল আমলে কেরামতিয়া হজুর নামে এক দরবেশ বসবাস করতেন। তার সহযোগিতায় সেখানে ওই সময়ে একটি ছোট মসজিদ নির্মাণ করে স্থানীয় লোকজন। তার মৃত্যুর পর মসজিদের পাশেই মরদেহ দাফন করা হয়। 

পরে মসজিদটি বড় আকারে নির্মাণ করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় মসজিদ ও মাজারটি সীমান্তের জিরো লাইনে পড়ে যায়। কেরামতিয়া হুজুরের মাজার ও মোঘল আমলের মসজিদকে কেন্দ্র করে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত-শত নারী ও পুরুষ নানা নিয়তে নামাজ পড়তে আসেন। মসজিদটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের অজুহাতে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয়  বিএসএফ।

২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের উচ্চ পর্যায়ে মসজিদের নকশা অনুমোদন হওয়ার পর ওই বছরের ২৯ এপ্রিল দুই তলা মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

আপনার মন্তব্য