ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভূপাতিত হয় ইউক্রেনের বিমানটি!

49
ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভূপাতিত হয় ইউক্রেনের বিমানটি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খামেনি বিমানবন্দরের কাছে ১৭৬ যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেনের বিমানটিকে বিমানবিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাত করা হয়েছিল।

এমন তথ্য পাওয়া গেছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইরাকি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের রাজধানী তেহরানের ঠিক বাইরে ইউক্রেনের যে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি একটি বিমানবিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাত করা হয়েছিল।

এই বিমানটিকে রাশিয়া নির্মিত টর-এম১ ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাত করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেন্টাগন ও মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়র এক কর্মকর্তা বলেছেন যে, পেন্টাগনের মূল্যায়ন হলো ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনক ছিল।

সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট মিসাইল সক্রিয় ছিল।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। জাতীয় সুরক্ষা কাউন্সিল বা স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায় হয়নি।

ইউক্রেনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইরাকি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের রাজধানী তেহরানের ঠিক বাইরে ইউক্রেনের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি একটি বিমানবিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাত করা হয়েছিল।

তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পশ্চিমা নেতারা বলছেন, ভুলবশত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের নেতারা এই দুর্ঘনার একটি পুর্নাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, তিনি বেশ কিছু গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য হাতে পেয়েছেন। এসব তথ্য অনুযায়ী, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটা হতে পারে যে, এই ঘটনা অনিচ্ছাকৃত।

ট্রুডো আরও বলেন, কানাডীয়দের অনেক প্রশ্ন রয়েছে এবং তারা এর উত্তর চায়। তবে এখনই তিনি কাউকে দোষারোপ করতে চান না। এই বিমানটিকে রাশিয়া নির্মিত টর-এম১ ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাত করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেন্টাগন ও মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়র এক কর্মকর্তা বলেছেন যে, পেন্টাগনের মূল্যায়ন হলো ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনক ছিল।

এর আগে বুধবার সকালে তেহরানের ইমাম খামেনি বিমানবন্দরের কাছে ১৭৬ যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান। দুর্ঘটনায় বিমানের কোনো আরোহীই বেঁচে নেই। ওই দুর্ঘটনা তদন্ত করছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ওই যাত্রীবাহী বিমানটি তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই এতে আগুন ধরে গিয়েছিল।

বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের মাত্র তিন মিনিটের মাথায় ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে থাকা অধিকাংশ আরোহীই ইরানি এবং ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক।

নিহতদের মধ্যে ৮২ জন ইরানি, ৬৩ জন কানাডীয়, ১০ জন সুইডেনের, চারজন আফগানিস্তানের, তিনজন জার্মানির এবং তিনজন ব্রিটেনের নাগরিক। অপরদিকে নয় ক্রুসহ ১১ জন ইউক্রেনের নাগরিক নিহত হয়েছে।

এদিকে ইরান বলছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ব্ল্যাকবক্স যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা বোয়িংয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবেনা। যদিও ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্তে যোগ দেবার জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বোয়িংকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

বিমান চলাচলের আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, তদন্তে নেতৃত্ব দেবার অধিকার রয়েছে ইরানের। তবে বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা সাধারণত তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত থাকে।

আপনার মন্তব্য