যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইরাকে ‘হালাল’ বিয়ের ফাঁদ!

59

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাকের সমাজে খুব গোপনে গড়ে উঠেছে বিতর্কিত ধর্মীয় চর্চা ‘হালাল বিয়ে’।

এই রীতিতে সামাজিকভাবে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ মেয়েদের ধর্মের নামে  ঠেলে দেয়া হচ্ছে যৌনতায়।

‘প্লেজার ম্যারেজ’ নামের বিতর্কিত এই ধর্মীয় চর্চার নামে শিশু ও তরুণীদের ওপর ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের চালানো নির্মমতা নিয়ে অনুসন্ধানী এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিবিসি।

ঘুম ভাঙার পর রুসুল বিছানায় নিজেকে একা আবিষ্কার করেন। তার নতুন স্বামী উধাও। মাত্র তিন ঘণ্টার জন্য টেকে তার বিয়ে। রুসুলের জন্য এটাই প্রথম বিয়ে নয়।

 এমনকি দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ বিয়েও নয়। কতবার যে তার বিয়ে হয়েছে তা তাকে গুনে বলতে হবে।

ইরাকের ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির ফাঁদে পড়া অনেকের মতো একজন রুসুল। নিজের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য কঠোর পথ বেছে নিতে হয় তাকে। 

বাগদাদের মতো স্থানে সারা দিন কাজ করেও যখন রুসুল পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারছিলেন না, তখনই এক ব্যক্তির সঙ্গে তার দেখা হয়। 

ওই ব্যক্তির সঙ্গে ক্রমশ ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। একসময় ওই ব্যক্তি তাকে কাধিমিয়া নামক এলাকার একটি বিয়ে পড়ানোর অফিসে নিয়ে যায় বিয়ে করা উদ্দেশ্যে। নিজের নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা ভেবে খুশি ছিল রুসুল।

মাত্র আড়াই শ ডলার মোহরানায় রুসুলের বিয়ে হয়। সঙ্গে তাকে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। যেহেতু রুসুল পড়তে পারে না, তাই তার পক্ষে জানার কোনো উপায় ছিল না চুক্তিপত্রে কী লেখা আছে। 

বিয়ের পর তার স্বামী তাকে নিয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টে যান। রুসুলের ভাষায়, ‘আমার মনে হচ্ছিল, কাঁধ থেকে বিশাল বোঝা কমে গেছে।’ 

কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই রুসুলের স্বামী উধাও হয়ে যান। আর তখনই তিনি জানতে পারেন, তাদের বিয়ের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

ইসলাম ধর্মে এমন বিয়েকে বলে ‘জাওয়াজ আল মুত্তা’। এ বিয়ে করা হয় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। মাত্র এক ঘণ্টা থেকে ৯৯ বছরের জন্য এই সময়সীমা হতে পারে। 

ইরাক ও ইরানের শিয়া মতাবলম্বীদের মধ্যে এই প্রথাকে এখন আর অনুসরণ করা হয় না। এমনকি সুন্নি মতাবলম্বীরাও এই বিয়ের অনুমোদন দেয় না। 

কিন্তু কিছু ধর্মীয় নেতা ‘মিসইয়ার’ নামে এক বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে এই বিয়েকে বৈধতা দিচ্ছেন।

আপনার মন্তব্য