যে কারণে পুতুল বিয়েতে ঝুঁকছে জাপানি তরুণরা

16

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানি তরুণরা পুতুল বিয়েতে ঝুঁকে পড়েছেন। গত কয়েক বছরে প্রায় চার হাজার তরুণ বিভিন্ন পুতুলকে বিয়ে করে হয়েছেন সংসারি!

বিষয়টি সত্যিই অবাক করারমত। জাপানি তরুণদের এমন কাণ্ড উঠে এসেছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।

বিবিসি বলছে, এসব তরুণ দিব্যি পুতুল সঙ্গির সাথে সুখেই সংসার করে চলেছেন। এর আগে ঘটনা করে পুকুলকে বিয়েও করেছেন তারা।

যে কারণে পুতুল বিয়েতে ঝুঁকছে জাপানি তরুণরা

কেনই বা এমন বিয়ে?সমাজ বিজ্ঞানীরা খুঁজছেন এই প্রশ্নের উত্তর। তারা বলছেন, যেসব তরুণ ‘ওটাকু’ ধরনের, তারাই মূলত এই কাজ করছে।

‘ওটাকু’ শব্দটি জাপানি, যার মাধ্যমে সেই সব মানুষকে বোঝানো হয় যারা ভিডিও গেমস এবং অ্যানিমের কাল্পনিক চরিত্রগুলোর প্রতি আসক্ত।

এ ধরনের ব্যক্তিদের অনেকে তাদের ওটাকু পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করে। আবার যারা সামাজিকভাবে একটু ভিন্ন তাদের ক্ষেত্রে এই একই শব্দ অবমাননাকর মনে হতে পারে।

যে কারণে পুতুল বিয়েতে ঝুঁকছে জাপানি তরুণরা

এরা বাস্তব জীবনের সম্পর্ক থেকে দূরে সরতে সরতে এ ধরনের চরম স্তরে পৌঁছে যায়। দেশটিতে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

গেটবক্স নামের একটি সংস্থা বিয়ের জন্য অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সাহায্য করছে। এখন তারা গ্রাহকদের অনানুষ্ঠানিক ‘বিয়ের সার্টিফিকেট’ও প্রদান শুরু করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা ৩ হাজার ৭০০ গ্রাহকের প্রস্তাব পেয়েছেন।

অধ্যাপক মাসাহিরো ইয়ামাদা একজন সমাজবিজ্ঞানী, যিনি ইয়োমিউরি পত্রিকায় পরিবার ও সম্পর্কের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

কয়েক বছর ধরে নিয়মিত সমীক্ষা চালাতে গিয়ে তরুণদের জিজ্ঞাসা করেন যে তারা কীসের প্রতি অনুরাগ বা আকর্ষণ বোধ করে।

যে কারণে পুতুল বিয়েতে ঝুঁকছে জাপানি তরুণরা

ওই তালিকায় ছিল পোষা প্রাণী, পপ তারকা, খেলোয়াড়, অ্যানিমে চরিত্র এবং ভার্চুয়াল আইডল (ডিজিটালি অ্যানিমেটেড অ্যানিমে ইউটিউব তারকা)।

তিনি বলেন, ‘এই সব ছদ্ম-সম্পর্ক দিন দিন বাড়ছে। এই বছরের জরিপে, প্রায় ১২ শতাংশ যুবক প্রায়শই কোনো না কোনো অ্যানিমে বা ভিডিও গেমের চরিত্রের প্রেমে পড়ছেন।

অধ্যাপক মাসাহিরো ইয়ামাদার মতে, এর পেছনে জড়িয়ে আছে জাপানের অর্থনীতি এবং ঐতিহ্য।

মূলত অনেক জাপানি নারী একজন পুরুষকে তার প্রেমিক হিসেবে বিবেচনা করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে প্রচুর অর্থোপার্জন করছে।

যে কারণে পুতুল বিয়েতে ঝুঁকছে জাপানি তরুণরা

২০১৬ সালে, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৪৭ শতাংশ নারী এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন যে স্বামীদের অর্থ উপার্জনের জন্য কাজ করা উচিত এবং স্ত্রীদের ঘরের কাজ করা উচিত।

জাপানের অর্থনীতি স্থবির হয়ে যাওয়ায় ভাল বেতনের পুরুষদের হার ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে, মজুরির পরিমাণও কমছে।

এ কারণে তরুণীদের একটি বড় অংশ এখন আর পুরুষদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে চান না। 

অন্যদিকে বেশিরভাগ তরুণও এখন আর তরুণীদের কাছে টানার কোনো চেষ্টা করেন না।

আপনার মন্তব্য