২২ জনের প্রাণ নিলো প্রলয়ঙ্করী আম্ফান

8
২২ জনের প্রাণ নিলো প্রলয়ঙ্করী আম্ফান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে শতাব্দির ভয়ঙ্করতম সুপার সাইক্লোন আম্ফান। 

 বুধবার দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই ঝড়ের তাণ্ডব চলেছে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশ্যা রাজ্যে।

 অন্তত ২২ জনের প্রাণ কেড়েছে এই ঝড়ে। এতে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিছু জেলা। হাজার হাজার বাড়িঘর, গাছপালা, রাস্তাঘাট একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারির মাঝে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ থেকে বাঁচতে দুই দেশের প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে ঠাঁই নিয়েছিলেন আশ্রয় শিবিরে।

কর্মকর্তারা আম্ফানের ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য সংগ্রহ করছেন জানিয়ে বলেছেন, ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ নিয়ে আম্ফান তাণ্ডব চালানোয় বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। ঝড়ের তাণ্ডবে শত শত বৈদ্যুতিক খুঁটি, প্রাচীর, বাসা-বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে।

ঝড়টির কেন্দ্রে পরিণত হওয়া পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরের বাসিন্দাদের বৃহস্পতিবার সকালে দেখেছেন সেখানকার চিত্র। রাস্তাঘাট ডুবে গেছে, পানির নিচে তলিয়ে গেছে অনেক ঘরবাড়ি। রাস্তায় গাছের নিচে চাপা পড়ে পানিতে ডুবে আছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কলকাতা বিমানবন্দরের কিছু অংশ পানিতে ডুবে গেছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, আম্ফানের প্রভাব করোনার চেয়েও মারাত্মক। রাজ্যে কমপক্ষে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি বলেন, হাজার হাজার মাটির ঘর একেবারে মিশে গেছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সড়ক ভেঙে গেছে, ধ্বংস হয়েছে আবাদি জমির ফসল।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, আম্ফানের তাণ্ডবে অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৫ বছর বয়সী এক শিশু গাছ চাপা পড়ে এবং ৭৫ বছর বয়সী এক স্বেচ্ছাসেবী পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

দুই দেশে আঘাত হানার আগে ঘূর্ণিঝড়টির প্রাথমিক তাণ্ডব ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভূক্ত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর শুরু হয়েছিল। সেখানে বিপন্ন প্রায় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অন্যান্য প্রাণী এবং গাছপালার কি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানতে প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রধান বন কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন খান ফরাসী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আমরা এখনও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পাইনি। বিশেষ করে আমরা সুন্দরবনের বেশ কিছু প্রাণীর ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। এ রকম উচ্চ জলোচ্ছ্বাসে কিছু প্রাণী ভেসে যেতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে প্রত্যেক বছরে এ ধরনের ঘূর্ণিঝড় হয়। গত কয়েক দশকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

ঘূর্ণিঝড়টি দূর্বল হয়ে বাংলাদেশের উত্তরপূর্বাঞ্চল অতিক্রম করলেও এখনও কক্সবাজারে ভারী বর্ষণ এবং তীব্র ঝড়ো হাওয়া বইছে। এই জেলায় মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী রয়েছে।

১৯৯৯ সালের পর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট চলতি শতাব্দির প্রথম সুপার সাইক্লোন আম্ফান। সমুদ্রে এর বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। ওই বছর একটি সুপার সাইক্লোনে ভারতের ওডিশ্যায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

তার আট বছর আগে বাংলাদেশে টাইফুন, টর্নেডো এবং বন্যায় অন্তত ১ লাখ ৩৯ হাজার মানুষ মারা যান।১৯৭০ সালে মারা যান অন্তত ৫ লাখ মানুষ। সেই সময় উভয় দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ৩০ লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

আপনার মন্তব্য