জলবায়ু পরিবর্তনে দারিদ্র্য বাড়তে পারে বাংলাদেশে

51
জলবায়ু পরিবর্তনে দারিদ্র্য বাড়তে পারে বাংলাদেশে

জাতীয় ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী এক দশকে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ১৫ ভাগ বাড়তে পারে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা এক মিটার বাড়লে তলিয়ে যেতে পারে দেশের মোট ভূখণ্ডের ১৭ ভাগ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রায় এক কোটি মানুষ অভিবাসী হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জবাবদিহি সংক্রান্ত দপ্তর (ইউএস গভর্নমেন্ট’স অ্যাকাউন্টাবিলিটি অফিস) গত সপ্তাহে ‘জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক অভিবাসনের সম্ভাব্য প্রভাব ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট কিছু সংস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ওই প্রতিবেদনের কেন্দ্রীয় আলোচ্য। এতে বলা হয়, উষ্ণতা বাড়লে ঘূর্ণিঝড় বাড়বে। এতে বাসস্থান, জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বাড়লে বাংলাদেশের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভূখণ্ড পানিতে তলিয়ে যাবে। বৃষ্টিপাতের ধারা পরিবর্তন হলে খরা বেড়ে যাবে এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ত পানি বেড়ে গেলে ফসল উৎপাদনও ব্যাহত হবে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভিবাসন এখন বেঁচে থাকার সাধারণ কৌশল। যেমন অনেক কৃষক এখন লবণাক্ত পানির প্রভাবে নিজেদের চাষাবাদের কৌশল পাল্টেছেন।

কেউ এখন লবণসহিষ্ণু ধান উৎপাদন করছেন, আবার কেউ ফসল ফলানো বাদ দিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু করেছেন। আর অনেকে গ্রাম ছেড়েছেন, জীবিকার আশায় পাড়ি জমিয়েছেন শহরে।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট আর সাসেক্স সেন্টার ফর মাইগ্রেশন রিসার্চ নামের দুই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিবাসনের এই ধারা ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে।

‘বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন’ (ক্লাইমেট চেঞ্জ রিলেটেড মাইগ্রেশন ইন বাংলাদেশ) শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ৯৬ লাখ অভিবাসী তৈরি হবে।

সূত্র: সমকাল

আপনার মন্তব্য