‘থাই ডন’ সেলিম প্রধানের অপকর্মে সঙ্গী শতাধিক তরুণী

106

জাতীয় ডেস্ক: দেশে অনলাইন ক্যাসিনো কারবারি ‘থাই ডন’ খ্যাত সেলিম প্রধানের অপকর্মের সঙ্গী শতাধিক তরুণী।

র‌্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘ ৩০ বছরে নিজের অপরাধজগতের অনেক ফিরিস্তি স্বীকার করেছেন তিনি। 

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংকক যাওয়ার পথে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর র‌্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। 

ওই সময় তিনি অপরাধজগতে পা দেওয়ার পর সাড়ে তিন শ কোটি টাকা পাচারের তথ্যও দিয়েছেন র‌্যাবকে।

এসময় উঠে এসেছে তার চাঞ্চল্যকর নারী কেলেঙ্কারির নানা তথ্য। জানা গেছে, সারা রাত সেলিম অফিসের গোপন কক্ষে মেয়েদের সঙ্গে সময় কাটাতেন।

অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার আন্তর্জাতিক গডফাদার ও প্রধান গ্রুপের প্রধান সেলিম প্রধান এবং তাঁর দুই সহযোগী আক্তারুজ্জামান ও রোমানকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় চার দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তাঁদের এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সেলিমের অপকর্মের সাক্ষী সুলাইমান নামের তার এক গাড়িচালক বলেন, ‘কোটি কোটি টাকার অবৈধ কারবার করলেও আমার পাওনা ৬০ হাজার টাকা বকেয়া। ছয় মাস সেলিমের সঙ্গে কাজ করে নিজ চোখে দেখেছি, প্রতিরাতেই সেলিমের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন অনেক বড় বড় লোক। 

তাদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনসহ অনেক ব্যবসায়ী রয়েছেন। এর মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনকে সেলিম নিজ হাতে টাকা দিতেন।’

সেলিমের গুলশানের বাসার চারতলার অফিসে একটি গোপন কক্ষের কথা জানিয়ে সুলাইমান জানান, সেখানে গত ছয় মাসে অন্তত এক শ তরুণীকে গাড়িতে করে নিয়ে গেছেন তিনি। 

সুলাইমান আরো জানান, সেলিম মাসের বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে থাকতেন। দেশে যখন আসতেন, তখন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা তার সঙ্গে ব্যস্ত থাকতে হতো। 

সারা রাত সেলিম অফিসের গোপন কক্ষে মেয়েদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। অথচ নিচতলায় তার বড় স্ত্রী থাকতেন। সেলিমের তিন স্ত্রীর মধ্যে বড় স্ত্রীই দেশে থাকেন।

 এর বাইরে একজন রাশিয়ায়, অন্যজন জাপানে। সেলিমের রাশিয়ান স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে রয়েছে। এ ছাড়া তার আর কোনো সন্তান নেই।

সুলাইমানের কথার সূত্র ধরে সরেজমিনে সেলিমের গুলশানের বাসায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে এক র‌্যাব কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সেলিম গুলশানের অফিসে তরুণীদের নিয়ে অনৈতিক কাজ করত। তার অফিস থেকে এর বেশ কিছু প্রমাণও পেয়েছি আমরা। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তার অফিসকে সে সব ধরনের অনৈতিক কাজের জন্য ব্যবহার করত।’

র‌্যাব সূত্র জানায়, সংসদের স্টিকারযুক্ত গাড়িতে চলাফেরা করতেন সেলিম। মোট ১২টি গাড়ি ব্যবহার করতেন তিনি। সংসদের স্টিকারসহ তাঁর গাড়ির ছবি কালের কণ্ঠ’র কাছে সংরক্ষিত আছে।

আরও পড়ুন

ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়িত সাবেক তিন মন্ত্রী, এক সিটি মেয়র ও পাঁচ এমপি সনাক্ত

ক্যাসিনো সম্রাজ্যের ‘থাই ডন’ সেলিম প্রধান গ্রেফতারে প্রভাবশালীদের ঘুম হারাম

রাজধানীতে ক্যাসিনোর আইডিয়া তারেকের!

এক সময়ের চোরাই তেল বিক্রেতারা এলাকায় যান হেলিকপ্টারে!

আপনার মন্তব্য