ফাঁসির আসামির মাথায় ‘আইএসের টুপি’

48

জাতীয় ডেস্ক: বহুল আলোচিত রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাকিবুল হাসান রিগ্যান রায়ের পরে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের পতাকার প্রতীক সংবলিত টুপি পরে আদালত থেকে বের হন।

এরপর প্রিজন ভ্যানে তোলার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি জাহাঙ্গীর আলমকেও একই রকম টুপি পরতে দেখা যায়।

পুলিশি হেফাজতে থাকার পরও তারা কীভাবে এ টুপি পেল তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা সমালোচনা। রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় দেন।

রিগ্যানের আইএসের টুপি পরে আদালতে আসার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। তারা দায়িত্ব এড়াতে পারে না। এ নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।’

মামলার আট আসামির মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র্যাশ, সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। আসামিদের মধ্যে মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রিগ্যান রাফিউল ইসলাম রাফি, রিপন, হাসান ও অন্তর নামেও পরিচিত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। রিগ্যানের বাড়ি বগুড়ার সদর উপজেলার ইসলামপুর পশ্চিমপাড়ায়।

হলি আর্টিসানে হামলার পর ঢাকার কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ির আস্তানায় অবস্থান করছিল সে। ওই বাড়িতে ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই অভিযানে ১১ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ধরা পড়ে রিগ্যান।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, রিগ্যান নব্য জেএমবির প্রশিক্ষক ছিল। হামলায় জড়িতদের প্রশিক্ষণ দিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটনে সহায়তা ও প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আর জাহাঙ্গীর আলম (২৮) ওরফে রাজীব গান্ধীর বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম রাঘবপুরে। ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে গাইবান্ধার সাঘাটায় যে বৈঠকে গুলশান হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল তাতে জাহাঙ্গীরও ছিলেন। গুলশান হামলার পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সংগ্রহ, হত্যাকাণ্ডে সক্রিয় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে দেওয়া বক্তব্যে জাহাঙ্গীর জঙ্গি সংগঠনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও গুলশান হামলায় সে যুক্ত ছিল না বলে দাবি করেছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় নিহত হন দেশি-বিদেশি ২০ জন। হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা এএসপি রবিউল করিম এবং ওসি সালাউদ্দিন খান নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। পরে হাসপাতালে মারা যান রেস্তোরাঁর কর্মী সাইফুল।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবর রহমানের আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিচার। বিচার শুরুর এক বছরের মাথায় রায় ঘোষণা করা হলো।

আপনার মন্তব্য