রংপুরে ঢিলেঢালা ভোট, মাছ শিকারে সিইসি

102

জাতীয় ডেস্ক: শেষ হয়েছে রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। একরমন ঢিলেঢালা ভোটগ্রহণ হয়েছে এই আসনে। 

ছিলোনা ক্ষমতাসীন-বিরোধী দলগুলোর প্রার্থী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি। ভোটার উপস্থিতিও ছিলো কম।

এই পরিস্থিতি কাজ ছিলো না প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার। তাই দলবল নিয়ে সিইসি মাছ শিকারে নেমেছিলেন ইসির লেকে।

উত্তাপহীন নির্বাচনী পরিস্থিতির জন্য বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান তার কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে ভোটের আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হানাকে দায়ী করেছেন। আর এরশাদ পুত্র সাদ ইতিমধ্যে তাঁর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন গণমাধ্যমে।

নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত থেকে দেখা গেছে, দুপুরের পর থেকেই কর্মচারীরা লেক চত্বর সাজাতে থাকেন। সেখানে আসে শোফা, চেয়ার ইত্যাদি। একটু পরই আনা হয় ছয়টি বড়শি। ময়দার গুটি বানিয়ে তৈরি করা মাছের টোপ। 

বেলা সোয়া তিনটির দিকে নির্বাচন ভবনের ওপর থেকে নেমে আসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব মো. আলমগীর, অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমানসহ অনেকে।

লেকে বড়শি ফেলেই মাছ তুলে আনেন সিইসি। অন্যরা যখন একটা মাছও ধরতে পারেননি, সিইসি একাই ততক্ষণে তিনটি মাছ তুলে নিয়েছেন নিজের ঝুলিতে। কমিশনার শাহাদাত হোসেন, সচিব আলমগীর ততক্ষণে একটি করে মাছ তাদের বড়শিতে আটকাতে পেরেছেন।

সিইসির বড়শিতে একটু একটু পরপরই মাছ আটকে যাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশে ব্যস্ত হয়ে পড়ে উপস্থিতি ইসি কর্মীরা। অনেককে বলতে শোনা যায়, অভিজ্ঞতার একটা দাম আছে।

কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃত অর্থেই নির্বাচন নিয়ে কোনো চাপ বা দুশ্চিন্তা নেই। ভালো নির্বাচন হচ্ছে। তাই ছুটির দিনে কাজ করতে এসে কমিশনের সদস্যরা একটু আনন্দ খুঁজছেন মাছ শিকারের মাঝে।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাঝে একটু লেক তৈরি করা হয়েছে। ভেতরে আছে ফোয়ারাও। আর এতেই দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির মাছ চাষ করছে ইসি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই লেক থেকে মাছ তুলে বারবিকিউ পার্টি করেছে কমিশন। এরপর আরও তিন দিন এখান থেকে মাছ শিকার করা হয়েছে। কর্মচারীরা বলেন, ‘স্যাররা মাছ ধরেন, কিন্তু নিতে চান না। আমরা অনেক সময় দিয়ে দিই।’

আজকের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এরশাদপুত্র রাহগির আল মাহি এরশাদ (সাদ), বিএনপির রিটা রহমান, স্বতন্ত্র হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, এনপিপির শফিউল আলম, গণফ্রন্টের কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মন্ডল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে জোটের কারণে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এরশাদপুত্রের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন বিএনপির রিটা রহমান। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান পেয়েছিলেন ৫৩ হাজার ৮৯ ভোট। ভোট পড়েছিল ৫২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

রংপুর-৩ আসনটিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই সম্পূর্ণভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। ভোট শেষ হবে বিকেল ৫টায়।

এইচএম এরশাদ গত ১৪ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আ.ই.ম গোলাম কিবরিয়া মঙ্গলবার ১৬ জুলাই রংপুর-৩ আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন।

আপনার মন্তব্য