রাজধানী ছাপিয়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামে গ্রামে

9

জাতীয় ডেস্ক: এতোদিন ডেঙ্গু আতঙ্ক ছিলো রাজধানী ঢাকাজুড়ে। কিন্তু রাজধানী ছাপিয়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক এখন ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামে গ্রামে।

গত ১০ আগস্ট এক দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ হাজার। আর গত  ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ। সে হিসাবে পুরো বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময়ে যা আক্রান্ত হয়েছে, সে সংখ্যা ছাড়িয়েছে আগস্টের ১০ দিনে। 

তবে এবার রাজধানীর পাশাপাশি গ্রামেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত তিন দিন ধরে ঢাকার তুলনায় ঢাকার বাইরে রোগী বেড়েছে। শনিবার বরিশালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেসরকারি হিসেবে দাঁড়াল ১০৪। যদিও সরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা ২৯।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে নতুন করে ২ হাজার ১৭৬ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 তাদের মধ্যে রাজধানীতে ১ হাজার ৬৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ১ হাজার ১১১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতি ও শুক্রবার রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও শনিবার এ সংখ্যা বেড়েছে।

চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৮ হাজার ৮৪৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯ হাজার ৩৯৫ জন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। 

বর্তমানে ৯ হাজার ৪২০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকার ৪০ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৫ হাজার ২৫৮ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ৪ হাজার ১৬২ জন ভর্তি আছেন।

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রুশা নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার রুহুল আমিনের মেয়ে। রুশা ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। সে জ্বর নিয়েই গ্রামের বাড়ি যায়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১০৪।

আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ৮৪৮, মিটফোর্ডে ৪১৮, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৬৭, সোহরাওয়ার্দীতে ৪৫০, বিএসএমএমইউতে ১৮০, পুলিশ হাসপাতালে ১২৭, মুগদায় ৫৫৩, বিজিবি হাসপাতালে ২৬, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ২২১, কুর্মিটোলায় ৩৯৭, বাংলাদেশ মেডিকেলে ১১০, হলি ফ্যামিলিতে ২২৪, বারডেমে ৩৮, ইবনে সিনায় ৭৮, স্কয়ারে ৮০, কমফোর্টে ১৭, শমরিতায় ২৭, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৫০ জন, ল্যাবএইডে ৪৫ জন, সেন্ট্রালে ১০৬ জন, হাই কেয়ারে ৩৩ জন, হেলথ অ্যান্ড হোপে ১৪ জন, গ্রীন লাইফে ৭৬ জন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১২১ জন, ইউনাইটেডে ৯৭ জন, খিদমায় ১৯ জন, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেলে ২৮ জন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে ৮০ জন, এ্যাপোলোতে ৮৩ জন, আদ-দ্বীনে ১০৫ জন, ইউনিভার্সেল মেডিকেলে ৫৭ জন, বিআরবি হাসপাতালে ৩৫ জন, আজগর আলীতে ৭৮ জন, বাংলাদেশ স্পেশালাইজপ হাসপাতালে ৩৮ জন, উত্তরা আধুনিকে ৫৩ জন, সালাউদ্দিনে ৪৫ জন, পপুলারে ৩০ জন, উত্তরা ক্রিসেন্টে ২৯ জন, আনোয়ার খান মর্ডানে ৮২ জন, কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ১১ জন সহ ৫ হাজার ২৫৮ রোগী ভর্তি আছে।

এছাড়া রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৯১২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৬৭ জন, খুলনা বিভাগে ৬৬৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫০৬ জন, রংপুর বিভাগে ৩০৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৬০০ জন, সিলেট বিভাগে ১০৭ জনসহ মোট ৪ হাজার ১৬২ জন চিকিৎসাধীন।

আপনার মন্তব্য