অফিসে গিয়ে প্রকৌশলীকে পেটালেন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে

33

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: অনিয়মের অভিযোগে রাজশাহীর বাঘায় রাস্তার নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়ায় আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের মারধরের শিকার হয়েছে এক প্রকৌশলী।

রোববার দুপুরে উপজেলা সদরে নিজ দপ্তরেই হামলার শিকার হন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহম্মেদ।

হামলা চালিয়েছেন বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি  আবদুল কুদ্দুস  সরকারের ছেলে সেলিম আহম্মেদ।

জানা গেছে, ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় ৫ শ’ মিটার সাব-বেইজ রাস্তা নির্মাণ কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর ‘মম এন্টারপ্রাইজ’।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস সরকার এই কাজ করছিলেন। পুরো কাজ দেখভাল করছিলেন তার বড় ছেলে সেলিম আহাম্মেদ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুরু থেকেই রাস্তা নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছিলো ঠিকাদার। বিষয়টি রোববার সকালে উপজেলা প্রকৌশলীকে জানায় এলাকাবাসী।

অভিযোগ পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে আসেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহাম্মেদ। অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে তিনি নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে ফিরে যান।

খবর পেয়ে ঠিকাদার আবদুল কুদ্দুস সরকারের ছেলে সেলিম আহম্মেদ  উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহাম্মেদের দপ্তরে যান। 

কাজ বন্ধ করায় তিনি ওই প্রকৌশলীর উপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারপিট শুরু করেন। অফিসের অন্য কর্মীরাে এসে তাকে রক্ষা করেন। পরে অভিযুদ্ধের বিচার দাবিতে বিক্ষোভও করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানতে চাইলে প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন সেলিম আহাম্মেদ। অন্যদিকে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন তার বাবা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কুদ্দুস সরকার। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার জানান, বেআইনীভাবে সরকারি কর্মকর্তার উপর হামলা হয়েছে। এনি গুরুতর অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এনিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য