কলেজজুড়ে একজনই পরীক্ষার্থী, সেও ফেল

182
যে কারণে খাতা দেখার সুযোগ হারাচ্ছেন রাজশাহী বোর্ডের ২০০ পরীক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার: জয়পুরহাট সদর উপজেলার হিছামতি আদর্শ কলেজ থেকে এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় বসেছিলো মাত্র একজন শিক্ষার্থী। সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছে।

ওই একজনই পরীক্ষার্থী ছিলো সিরাজগঞ্জ সদরের চৌগাছা মহিলা কলেজেরও। তারও দশা একই। গত বছর মাত্র একজন পরীক্ষার্থী ছিলো এই কলেজের। সেবার ওই পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়।

এবার বোর্ডের কেউ পাশ করেনি এমন কলেজ দাঁড়িয়েছে সাতে। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকওলি বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ।

এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। নয়জন পরীক্ষার্থী ছিলো চককামদেব আদর্শ কলেজ থেকে। এই নয়জনও যোগ হয়েছে ফেলের তালিকায়।

জয়পুরহাট সদরের জয়পুরহাট নৈশ্য বিদ্যালয়ের তিন জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল। গত বছর এই কলেজ থেকে অংশ নেয়া সাত পরীক্ষার্থীর অংশ নেয়। সেবই বারও সবাই ছিলো ফেলের তালিকায়।

এবার রাজশাহীর দুর্গাপুরের দাবিপুর কলেজ ও বগুড়ার সারিয়াকান্দি গণকপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুজন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও ফেল করেছে প্রত্যেকেই।

বুধবার বেলা ১টার দিকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আনারুল হক প্রমানিক।

তিনি বলেন, শূণ্যপাশের এমন কলেজগুলো সবেমাত্র পাঠদানে অনুমতি পেয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যাও একেবারেই কম। তবে এদের পাশ করা উচিত ছিলো। কেউ পাশ না করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে শিক্ষাবোর্ড।

এর আগে ২০১৮ সালে রাজশাহী বোর্ডে শূণ্যপাশ কলেজ ছিলো ৬টি। এছাড়া ২০১৭ সালে ১১টি, ২০১৬ সালে ৮টি, ২০১৫ সালে ৫টি, ২০১৪ সালে ২টি এবং ২০১৩ ও ২০১২ সালে ৪টি কলে কলেজ ছিলো এই তালিকায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বোর্ডে এবার পাশের হার ৭৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিলো ৬৬ দশমিক ৫১ শতাংশ।

এবার বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলো এক লাখ ৫১ হাজার ১৩৪জন। এর মধ্যে পাশ করেছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫৫০জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭২৯ জন। এবছর ৮১ দশমিক ২১ শতাংশ মেয়ে এবং ৭২ দশমিক ৩২ শতাংশ ছেলে পাশ করেছে। ফলাফল সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে শিক্ষাবোর্ড।

আপনার মন্তব্য