কারেন্ট জাল উদ্ধারে গিয়ে হামলার মামলা তুলে নিতে চাপ

11

স্টাফ রিপোর্টার, তনোর: রাজশাহীর তানোর পৌরশহরের শিবনদীর বিলকুমারি বিলে অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধারে গিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সর্ঙ্গীয় ফোর্সদের উপর হামলার ঘটনায় পাশ্ববর্তী উপজেলার মেলান্দি গ্রামের অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এগারো দিন অতিবাহিত হলেও জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

চলতি মাসের ১ সেপ্টেম্বর তানোর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহাদুল ইসলাম বাদি হয়ে মোহনপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।

এদিকে মামলাটি তুলে নিতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলা দায়েরের পর থেকেই ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাহারুল উদ্দিন বাবলু তার দুলাভাই মোহনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম এবং তার শ্যালক পবা-মোহনপুরের সাংসদ আয়েন উদ্দিন এই চাপ দিচ্ছেন বলে জানা যায়। তবে অভিযুক্তরা জানান, মামলা তুলে নিতে তাঁরা চাপ দেননি, বিষয়টি মীমাংসার কথা বলেছেন।

জানা যায়, চলতি বছরের গত ২৯ আগস্ট দুপুরে শিবনদীর বিলকুমারি বিলে তানোর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহাদুল ইসলাম, তার অফিস ষ্টাফ ও পুলিশসহ প্রতি মাসের ন্যায় অবৈধ কারেন্ট জাল আটকের জন্য অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তানোর থানাধীন বিলকুমারী বিলের মেলান্দি গ্রামের বাঁধের নীচে পশ্চিম পার্শ্বে তানোর মৌজায় অবস্থানরত একটি অবৈধ কারেন্ট জাল বোঝাই নৌকা আটক করতে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঔত পেতে থাকা মোহনপুর উপজেলার মেলান্দি গ্রামের শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সারাফাত ইসলাম, মোনারুল ইসলাম, মাসুম রহমান, মুনজুর রহমান, রইচ উদ্দিন, হযরত আলী, ওহাব আলী, আলম, আব্দুল গণি, রাজ্জাক আলী, সোহরাব আলীসহ আরও অজ্ঞাতনামা ২৫-৪০ জন তাঁদের উপর হামলা চালায়। হামলায় মৎস্য কর্মকর্তা সাহাদুল ইসলামসহ অন্যরা গুরুত্বর আহত হন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৎস্য অফিসের স্টাফ রতনের অবস্থা বেগতিক দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে রেফার্ড করেন। এদিকে, এ খবর প্রশাসনে ছড়িয়ে পড়লে তানোর-মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক মহাদয়ের হস্তক্ষেপে ঘটনার দুইদিন পরে মোহনপুর থানায় তানোর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহাদুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহেও চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি মোহনপুর থানা পুলিশ। আর এই মামলাটি তুলে নিতে প্রতিনিয়ত স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাপ দিচ্ছেন বলে জানা যায়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহাদুল ইসলাম মুঠোফোনে বুধবার রাতে এই প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার পর থেকেই প্রভাবশালীদের চাপ অব্যাহত ও সাংবাদিকদের কোনকিছু না জানাতেও হুশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। তাই এনিয়ে খবর প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন তিনি।

আর মামলা এবং আসামী গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহমেদ এবং রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল্লাহ এই প্রতিবেদককে বলেন, পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য স্থানে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। আসামী গ্রেফতার ও তদন্তে কোন ধরণের গাফিলতি করার সুযোগ নেই বলেও জানান তাঁরা।

এদিকে, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে একাধিকবার চেস্টা করেও কোন সাঁড়া পাওয়া যায়নি।#

আপনার মন্তব্য