খুনের আসামী দুই প্রেমিক, সাক্ষি তাদের প্রেমিকারা

40

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে কলেজছাত্র আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (১৯) হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে দুই যুবককে। ওই মামলায় সাক্ষি করা হয়েছে তাদেরই প্রেমিকাদের।

প্রেমিকাদের নিয়ে ঘুরতে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটান দুই প্রেমিক। বুধবার বিকালে নগরীর পবা নতুনপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ফাহিম রাজশাহীর শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। ছেলে খুনের ঘটনায় গোলাম হাসান নগরীর শাহমখদুম থানায় মামলা করেছেন।

মামলার আসামী হলেন-নগরীর ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বশির আলমের ছেলে আজমীর হাসান (২২) এবং আবুল হোসেনের ছেলে রাকিব হাসান ওরফে আবির (১৯)। 

এদের মধ্যে আবিরের বাবা রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) সদর দপ্তরের অফিস সহকারী। গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার আবিরকে  আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় আজমীর হাসানকেও। তবে শ্বাসকষ্টজড়িত অসুস্থতায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবির ও আজমীর বুধবার বিকালে পবা নতুনপাড়া এলাকায় তাদের প্রেমিকাদের সঙ্গে দেখা করতে যান। তারা প্রেমিকাদের সঙ্গে বসে ছিলেন। 

তখন এলাকার ছেলে ফাহিম, যুবরাজ ও সৈকত গিয়ে তাদের বলেন, এই এলাকায় এভাবে বসে থাকা যাবে না। এতে ‘বিরক্ত’ হয়ে আজমীর ও আবির তাদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ছুরি বের করে আক্রমণ করেন।

এতে ফাহিম ও যুবরাজ আহত হন। প্রাণভয়ে পালিয়ে যান সৈকত। এরপর প্রেমিকাদের নিয়ে পালিয়ে যান আজমীর ও আবির পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন আহত দুইজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। 

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাহিমের মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সনাক্ত করা হয় অভিযুক্তদেরও।


এরপর বৃহস্পতিবার সকালে আবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহমখদুম থানায় আনা হয় দুই প্রেমিকাকেও। এরা দুজন বান্ধবী। দুজনেই পড়াশোনা করে নবম শ্রেণিতে। বাড়ি নগরীর নওদাপাড়া এলাকায়।

থানায় এ দুই স্কুলছাত্রী জানায়, একমাস আগে আবিরের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের একজনের পরিচয় হয়। তারপর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। 

তারা দুজন দেখা করে। তখন মেয়েটির ওই বান্ধবীও সঙ্গে যায়। আবিরের সঙ্গেও আসেন আজমীর। এদের দুজনেরও সম্পর্ক তৈরি হয়। তারপর থেকেই তারা চারজন মাঝে মাঝে নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা করতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আজমীর এবং আবির নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে বাদ দিয়েছেন। তারা বখাটে। আজমীর বিবাহিত। তবে বিষয়টি তিনি প্রেমিকার কাছে গোপনেই রেখেছিলেন।

খুনের ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আজমীর পলাতক ছিলেন। শুক্রবার সকালে তাকেও গ্রেফকার করা হয়। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আবির হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছোট একটা ছুরি দিয়ে যুবরাজ ও ফাহিমকে আঘাত করা হয়েছিল। ছুরিটিতে লাইটারও সংযুক্ত ছিলো। 

ধূমপানের সময় এটা দিয়ে তারা আগুন জ্বালাতেন। বসে থাকার সময় ‘বিরক্ত’ করায় এই ছুরি দিয়েই আঘাত করা হয়েছিল। তবে ছুরিটি উদ্ধার করা যায়নি বলেও জানান ওসি সাইফুল ইসলাম সরকার।

আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, পরিচয় সনাক্ত হওয়ার আগে মামলার এজাহারে আসামিদের ‘অজ্ঞাত দুই বান্ধবী’ উল্লেখ করে তাদের সাক্ষী করা হয়েছে। তবে পরে তাদের পরিচয় সনাক্ত করা গেছে। ঘটনার সাক্ষি হিসেবে থানায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য