খেজুরগুড়ে চাঙ্গা রাজশাহীর অর্থনীতি

22
খেজুরগুড়ে চাঙ্গা রাজশাহীর অর্থনীতি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর রেশমের খ্যাতি দেশজুড়ে। সে খবর এখন অতিত। অনেক আগেই আমের রাজধানী রাজশাহী ছাড়িয়েছে আমের গন্ডি। কিন্তু স্বাদে গন্ধে এখনো অতুলনীয় রাজশাহীর আম। তেমনি এখনকার খেজুরগুড়ের খ্যাতিও দেশজুড়েই।

চলছে শীতকাল। গ্রামে গ্রামে চলছে খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরির ধুম। এখনকার অর্থনীতি এখন চাঙ্গা খেজুরগুড়ে। এবার অন্তত: ৭০ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশাবাদ চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ বানেশ্বর, পুঠিয়া ঝলমলিয়া ও বাঘায় সরগরম খেজুরগুড়ের হাট। প্রান্তিক গুড় প্রস্তুতকারীরা নিজেদের উৎপাদিত গুড় নিয়ে হাজির হন হাটে। আড়ৎদারতের হাত ঘুরে রাজশাহীর খেজুরগুড় চলে যাচ্ছে দেশের নানান প্রান্তে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররাও ভীড় জমাচ্ছেন এখানে। তারাও নিয়ে যাচ্ছেন গুড়।

খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছি এবং গুড় তৈরীর জন্য কারিগর রাখেন কৃষকরা। কূয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্য্য ওঠার আগেই খেজুর রস সংগ্রহ করেন গাছিরা। এরপর বাসায় এনে সেই রসে জ্বাল দেন কারিগররা। পুরুষের পাশাপাশি এই কাজে হাত লাগান নারীরাও। নানান প্রক্রিয়া শেষে এখানে হাতে তৈরী হচ্ছে নির্ভেজাল সুস্বাদু খেজুরগুড়।

খেজুরগুড়ে চাঙ্গা রাজশাহীর অর্থনীতি

এসব প্রান্তিক গুড় প্রস্তুতকারী নিজেরাই গুড় নিয়ে যান হাটে। রকমভেদে প্রতিকেজি খেজুরগুড় বিক্রি করেন ৬০ থেকে ৭৫ টাকায়। এই গুড় রাজশাহী নগরীতে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে।

অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় গুড় প্রস্তুতকারী হাইড্রোজ, চিনি ও ফিটকিরি মিশিয়ে গুড় প্রস্তুত করেছেন। তবে অধিক মুনাফার আশায় এই কাজে জড়াচ্ছেন তারা। তবে এমন কাণ্ড একেবারেই নগন্য বলে দাবি করেছে কৃষি দপ্তর।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি জানান, জেলায় খেজুর গাছ রয়েছে প্রায় ৮ লাখ। সড়কপথ, পতিত জমি ও বাড়ির আঙিনা গড়ে উঠেছে এসব খেজুরবাগান। প্রতি শীত মৌসুমে এ থেকে ৮ হাজার মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা। খেজুরগুড় তৈরীর মৌসুমী কারবারে জড়িত এখানকার প্রায় ২০ হাজার পরিবার।

আপনার মন্তব্য