চারঘাটে রাস্তার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ

15

স্টাফ রিপোর্টার, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মিলিক লক্ষীপুর থেকে বেলতলী শহিদুল ইসলামের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং নিম্নমানের ইটগুলো সরিয়ে ফেলেছেন। এর পরও ঠিকাদার পুনরায় নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করছেন বলে জানান এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার মিলিক লক্ষীপুর থেকে বড়বড়িয়া বেলতলীর শহীদুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মানের কাজ চলছে। রাস্তাটি এর আগে মাটির রাস্তা ছিল। এখন সেই ৩০০ মিটার রাস্তা বিসি দ্বারা পিচ করার কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।এ জন্য ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় তিন সপ্তাহ আগে এ রাস্তার কাজ শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ জে এন্টারপ্রাইজ।
কাজ শুরুর সপ্তাহ খানেক পরেই রাস্তায় নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেন।তাঁরা রাস্তায় নেমে আসেন। ঠিকাদারের ব্যবহৃত নিম্নমানের ইটের খোয়া সরিয়ে ফেলতে বলেন। সেই সঙ্গে ঠিকাদারকে বলেন, ভালো ইট দিয়ে কাজ করতে।

মিলিক লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, রাস্তা নির্মাণের জন্য যে মানের ইট দেওয়ার কথা ঠিকাদার তা দিচ্ছেন না। ফলে রাস্তাটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।সেজন্যই আমরা এলাকাবাসী বাধা দিয়েছি।

একই এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দীন আহমেদ বলেন, রাস্তার ইট বালি সবকিছুই নিম্ন মানের।আমরা এলাকাবাসী বাধা দিয়েছি তবুও নিম্ন মানের উপকরন দিয়েই কাজ চলছে।বালি রাস্তায় ফেলার পরে পানি পর্যন্ত দেয়নি।পরে আমরা নিজেদের খরচে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিয়েছি।এভাবে রাস্তা করলে বেশিদিন টিকবেনা বলে জানান তিনি।

তবে ঠিকাদার এ জে এন্টারপ্রাইজের মালিক মজির উদ্দীন জানান, ভাটা কর্তৃপক্ষ কিছু খারাপ ইট দেওয়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।এলাকাবাসী বাঁধা দেওয়ায় আমরা নিম্ন মানের ইট সরিয়ে নিয়েছি।বর্তমানে ভালো ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ঐ রাস্তার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল হাসান বলেন,আমাদের অজান্তে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রথম দিকে নিম্ন মানের ইট নিয়ে আসে।আমরা এলাকাবাসী অভিযোগের পেক্ষিতে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে বলেছি।এখনো কিছু নিম্ন মানের ইট আছে,তবে সেগুলো ঠিকাদার সরিয়ে নেবে।কাজের সঠিক মান ঠিক রেখেই রাস্তাটি নির্মাণ করা হবে।

এ ব্যাপারে এলজিইডির চারঘাট উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন জানান, বিষয়টা আমার জানা ছিল না। রাস্তাটার কাজ পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার মন্তব্য