তানোরে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

42
তানোরে নিম্নমানের চাল ফেরত পাঠালেন গ্রামবাসী

মিজানুর রহমান : ঈদের পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও রাজশাহীর তানোরের সড়কে মিনিবাস ও সিএনজি অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঈদ বখশিশের নামে জেলার অন্যতম আমনুরা-তানোর-রাজশাহী ও তানোর-চৌবাড়িয়া সড়কের বিভিন্ন রুটে এখনও যাত্রীদের জিম্মি করে দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া আদায় করছে পরিবহন শ্রমিকরা। এতে চরম হয়রানির শিকার যাত্রীরা।

প্রতিদিন ওই সড়কে পরিবহন শ্রমিকদের খেয়ালখুশি মতো বাড়ানো টাকা দিতে না পারলে যাত্রীদের গাড়িতে তুলছে না তারা। এ নিয়ে সড়কগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের পথে পথে বাকবিতন্ডা ছাড়াও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে মহাসড়কে অধিক মিনিবাস ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। গাড়ির চালক ও সহকারীরা যাত্রীদের জিম্মি করে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করায় দরিদ্র মানুষগুলো পড়েছেন বিপাকে। তাছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাস চালকদের পেটোয়া বাহিনী সিএনজি চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি করছে। কিন্তু এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই কারও।

তানোর-রাজশাহী মহাসড়কের তানোর পৌরসভার কাশিমবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী সিহাবুর ইসলাম জানান, গোরহাঙ্গা রেলইগেট যাওয়ার উদ্দেশে তিনি সকালে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো গাড়ি পাননি। বেশ কয়েকটি গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করলেও প্রায় সব মিনিবাস ও সিএনজি অটোরিকশা ঈদ বখশিশের নাম দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কেউই কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে গাড়িচালকরা এক প্রকার বেপরোয়া হয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলেছে। ওই যাত্রী আরও জানান, তানোর জিরোপয়েন্ট থেকে গোরহাঙ্গা রেইলগেট এর ভাড়া সিএনজি অটোরিকশার ৫০-৬০ ও বাসে ৩৫-৪০ টাকা। অথচ তারা দ্বিগুণেরও বেশি টাকা চাইছে। কিন্তু যা অবস্থা শেষপর্যন্ত এ টাকাতেই যেতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে খবর পাওয়া গেছে, মূলত সিএনজি অটোরিকশা চালকরাও যাত্রীদের কাছ থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে। থানা গেট থেকে কাশিমবাজার সড়ক পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

উপজেলার ময়েনপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন, সিএনজিচালকরা ঈদের বখশিশের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে। ৫৫ টাকা ভাড়া ঈদ উপলক্ষে ৬০ টাকা নেয়া যেতে পারে। কিন্তু ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

অন্যদিকে তালন্দ সমাসপুর এলাকার বাসিন্দা সুকুমার রবিদাশ বলেন, তিনি দীর্ঘক্ষণ গাড়ির জন্য অপেক্ষা করে করে হাঁফিয়ে উঠেছেন। গাড়িচালকরা যাত্রীকে জিম্মি করে ফেলেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বাস না পেয়ে বিরক্ত হয়ে কয়েকজন মিলে সিএনজি অটোরিকশাযোগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেখলাম নৈরাজ্য সেখানেও।

আমনুরা-তানোর-রাজশাহী পর্যন্ত প্রত্যেকটি সিএনজি অটোরিকশা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা ভাড়া চাইছে। অথচ সর্বো”চ ৩৫০ টাকা ভাড়ারীতে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিদিন চলতেন তারা। ঈদ শেষ হয়ে গেলেও তাদের নৈরাজ্যের শেষ হয়নি।

এ ব্যাপারে পরিবহন মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ঈদের সময় পুলিশসহ পথে পথে চাঁদা দেওয়া এবং রাজশাহী শহরে যাত্রী নামিয়ে খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হ”েছ। বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে যাত্রীদের কাছ থেকে কিছু অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হ”েছ।

আপনার মন্তব্য