দেড় যুগেও ঠিকানা পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা

16

এইচ এম শাহনেওয়াজ: রাজশাহীর পুঠিয়ায় একমাত্র পৌরসভা গঠনের পর দীর্ঘদিন আইনী জটিলতা কাটিয়ে জনপ্রতিনিধি দ্বায়িত্বে আসলেও নিজেস্ব কোনো স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলতে পারেননি।

তাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ১৮ বছর যাবত বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

খাতা-কলমে পৌরসভাটি তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নতি করণ করা হলেও সঠিক সেবার মান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পৌরবাসীর।

জানাগেছে, গত ২০০১ সালে পুঠিয়া সদর ও জিউপাড়া ইউনিয়নের অংশ বিশেষ নিয়ে একমাত্র পৌরসভাটি গঠন করা হয়। সে সময় পৌরসভা বাতিল করতে আদালতে একটি রীট মামলা দায়ের করার কারণে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর নির্বাচন বন্ধ থাকে।

এরপর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দ্বায়িত্ব নেয়ার পর গত ২০১৬ সালে সেপ্টেম্বর মাসে পৌরসভাকে ঘ’ থেকে খ’শ্রেণীতে উন্নতিকরণ করার ঘোষনা দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। কিন্তু পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর সে সময় মন্ত্রণালয় পৌরসভা ভবন করা বাবদ প্রায় ৭৫ লাখ টাকা বর্দ্দা দেন।

অর্থ থাকা সর্তেও জমি সংকটের কারণ দেখিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও নিজেস্ব পৌর ভবন এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যার ফলে যাযাবরের মত বিভিন্ন স্থানে ভাড়া ঘরে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।

এলাকাবাসী সায়েদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর হয়ে গেছে পৌরসভা গঠনের। আমরা নিয়মিত কর দিয়ে আসছি কিন্তু পৌরসভা আমাদের কি দিয়েছেন? একটা জন্ম-মৃত্যুর সনদপত্র তুলতেও টাকা দিতে হয়।

নেই পর্যাপ্ত গণ শৌচাগার, আধুনিক মানের খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত উদ্যোন। জরার্জীন্ন রাস্তা-ঘাট গুলো সংস্কারের কোনো আগ্রগতি নেই।

আমাদের এলাকায় কয়েকটি সড়ক বার্তি লাগানো হলেও এর বিদ্যুৎ বিল আমাদের দিতে হয়। মশার ওষধ ছিটানোতো দুরের কথা, কাউকে কুকুরে কামুড় দিলে বরাদ্দকৃত জলাতঙ্কের ওষধ পর্যন্ত পৌরসভায় পাওয়া যায় না।

পৌরবাসীরা বলেন, শুনেছি পৌরসভাটি নাকি “ঘ” থেকে “খ” শ্রেণীতে উন্নতি করণ করা হয়েছে। এই উন্নতির ফলে বাড়ী-ঘরসহ বিভিন্ন ট্রেড লাইসেনন্সের কর বৃদ্ধি করা হয়েছে কয়েক গুন।

কিন্তু টাকা ছাড়া তো আমরা কোনো সেবা পাইনা। পুরো পৌর এলাকা জুড়ে পানি নিস্কাশনের ডেনেজ না থাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

রাস্তার পাশে ঝোপঝাড় ও অপরিস্কার থাকে সব সময়। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর মশা নিধনের বরাদ্দ থাকলেও কোনো দিনই সে সুবিধা পায়নি পৌরবাসী।

মাঝে মধ্যে সদরে কিছু অংশ নামমাত্র পরিস্কার করলেও ওই দিনই পূর্বের অবস্থায় তা ফিরে আসে। কোথাও পৌরসভার দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম রবি বলেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয়েছে দীর্ঘদিন হলো। তবে প্রায় ১৪ বছর প্রশাসক নামমাত্র কার্যক্রম চালিয়েছেন। নির্বাচনের পর আমরা নাগরিক সেবার দ্বায়িত্ব নিয়েছি।

আর পৌরসভা ভবন তৈরি করতে কয়েকটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা সে গুলো মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছি। ভাড়া ঘরে পৌরসভার অনেক ব্যয় বহন করতে হয়।

তাছাড়া পৌরসভায় এলাকায় অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এতো সমস্যা একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। আমরা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা গুলো চিহ্নিত করেছি।

তবে যা বরাদ্দ আমরা পাই তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। তবে আস্তে আস্তে সকল সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য