পুুঠিয়ায় পুকুর খননের হিড়িক

35
পুুঠিয়ায় পুকুর খননের হিড়িক

স্টাফ রিপোর্টার, পুঠিয়া: রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারী নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধগুলি দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে ২৫টি পুকুর খননের কাজ চলছে পুরো দমে। এক শ্রেণীর মৎস্য ব্যবসায়ীরা হাইকোট থেকে অনাবাদি জমি দেখিয়ে পুকুর খননের অনুমোদন নিচ্ছে। আবার অনেকই স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা, পুলিশ-প্রশাসনকে মোট অংকের টাকা দিয়ে রাতা-রাতি পুকুর খনন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাত্ররিক্ত পুকুর খননের ফলে এই অঞ্চলে কমে যাচ্ছে বিভিন্ন ফসলী জমি।

বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার শিলমাড়িয়া, ভালুগাছি, জিউপাড়া, বেলপুকুর এলাকায় বেশী পুকুর খননের হিড়ি পড়েছে। প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীরা পুকুর খনন করতে প্রথমে বেশী টাকার লোভ দেখায়ে স্থানীয় কৃষকদের সাথে বিশেষ সমঝোতা করেন। এরপর তারা খনন কাজ শেষ করতে রাজনৈতিক দলের নেতা, পুলিশ-প্রশাসনের সাথে মোটা অংকের টাকার চুক্তি করে।

আবার অনেক মৎস্য ব্যবসায়ীরা স্থানীয় ভাবে চুক্তিতে ব্যর্থ হলে হাইকোটের আশ্রয় নেয়। হাইকোটে পুকুর খননের স্থানটি অনাবাদি দেখিয়ে পুকুর খননের জন্য অনুমোদন করে নেয়। এরপর একাধিক স্কেভেটারের মাধ্যমে শুরু হয় পুকুর খনন কাজ। স্কেভেটরের মাধ্যমে এক থেকে দেড়শ’ বিঘার একটি পুকুর খনন করতে মাত্র ১০/১২ দিনের মধ্যে শেষ করা হয়।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ তুলে বলেন, মৎস্য ব্যবসায়ীরা বিলের পানি প্রবাহের স্থান বন্ধ করে বড় বড় দিঘি কাটছে। এতে করে দীর্ঘদিন বিলে পানি জমে থেকে সাধারন চাষীদের ফসল হানী ঘটছে। তারা আরো বলছেন, পুঠিয়া উপজেলায় কোথাও পুকুর খনন করতে হলে বিভিন্ন দপ্তরে লাখ লাখ টাকা চুক্তি করতে হয়। যার কারণে সাধারণ কষকরা ক্ষতিগ্রস্থ্য হলেও পুলিশ-প্রশাসনের বিভিন্ন হয়রানীর করণে কোথাও প্রতিবাদ করতে পারে না।

রফিকুল ইসলাম নামে এক জন চাষী অভিযোগ তুলে বলেন, একজন প্রভাশালী মৎস্য ব্যবসায়ী কিছুদিন আগে পুঠিয়া সদর এলাকায় দুইটি পুকুর খননের কাজ শুরু করে ছিল। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মূখে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ পুকুর খননের কাজ বন্ধ করে দেয়।

কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর এক রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা করে সেখানে আবার পূর্ণরায় খনন কাজ শুরু হয়েছে। এলাকায় যত্রতত্র ভাবে পুকুর খনন করায় কৃষকরা বছরের বেশীর ভাগ সময় বিলে পানি বন্দি থেকে। এতে করে কৃষকদের প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকার ফসলহানী ঘটছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুলা আল মাহমুদ বলেন, উপজেলার যেখানে পুকুর খননের কাজ হচ্ছে আমি সেখানে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তবে কিছু কিছু পুকুর মালিকরা মহামান্য হাইকোর্টের অনুমতি ক্রমে খনন কাজ করছে।

আপনার মন্তব্য