প্রতিবন্ধিতা দমাতে পরেনি হারুন-অমিতদের

25
রাজশাহীতে মাছের উৎপাদন ৮১ হাজার মেট্রিক টন নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম আপডেট : জুলাই ১৭, ২০১৯ , ২:১৯ অপরাহ্ণ ক্যাটাগরি : কৃষি,রাজশাহীর সংবাদ পোস্টটি শেয়ার করুন FacebookTwitter নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী জেলায় বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে। চাহিদার উদ্বৃত্ত এই মাছ উৎপাদন করে সারাদেশের মধ্যে রাজশাহী জেলা ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে বুধবার রাজশাহীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এর আয়োজন করে মৎস্য অধিদপ্তর। সেখানে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা জানান, রাজশাহীতে বছরে মাছের চাহিদা ৫৮ হাজার ৮১৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন হয় ৮০ হাজার ৮৯৯ দশমিক ৭৯৫ মেট্রিক টন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরে পাঠানো হচ্ছে উদ্বৃত্ত প্রায় ২২ হাজার ৮১ মেট্রিক টন মাছ। রাজশাহীতে পুকুর রয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৬টি। এসবের আয়তন ৭ হাজার ২৯৪ হেক্টর। আর ৩ হাজার ৪৬২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক খামার রয়েছে ৬ হাজার ১০৮টি। এছাড়া বারোপিট, নদী, খাল, বিল ও প্লাবন ভূমিসহ মাছ পাওয়া যায় এমন মোট জলাশয় রয়েছে ৪৮ হাজার ৫৩১টি। মোট আয়তন ৩৯ হাজার ২৫২ হেক্টর। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বুধবার থেকেই জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রথম দিন সংবাদ সম্মেলন করা হলো। দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার বের করা হবে র‌্যালি। শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ শেষে মাছের পোনাও অবমুক্ত করা হবে। তৃতীয় দিন জেলার বাগমারা উপজেলায় আলোচনা সভা শেষে উদ্বোধন করা হবে মৎস্য মেলা। চতুর্থ দিন চলবে ফরমালিন বিরোধী অভিযান। এর পরদিন স্কুল-কলেজে অনুষ্ঠিত হবে মৎস্য চাষ বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। ষষ্ঠ দিনে হাটবাজারে মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে প্রচার করা হবে প্রামাণ্যচিত্র। ২৩ জুলাই সপ্তম দিনে জেলার পবা উপজেলা পরিষদ হল রুমে আয়োজন করা হবে মূল্যায়ন ও সমাপনী অনুষ্ঠানের। জেলা ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে সপ্তাহটি উদযাপন করবে। সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো. শামসুজ্জোহা, উপ-পরিচালক হাসান ফেরদৌস, দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পারভেজ রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্টাফ রিপোর্টার: অদম্য ওরা ৩০ জন। প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি হারুন, অতিম ও নাদিমদের। রাজশাহী বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছে এরা।

এবার বোর্ডে মোট প্রতিবন্ধি পরীক্ষার্থী ছিলো ৪১জন। এর মধ্যে পাশ করেছ ৩০ জন। এদের ১৮ জনই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি। বাকি ১২জন শারীরিক প্রতিবন্ধি। পরীক্ষায় ৪ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি এবং ৭ জন শারীরিক প্রতিবিন্ধি পরীক্ষার্থী ফেল করেছে।

বুধবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। সেখানে জানানো হয়, বিধি অনুযায়ী, এরা প্রত্যেকেই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় এবং শ্রুত লেখক পেয়েছিলো।

সবাইকে অবাক করে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হারুনুর রশিদ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধি অমিত সরকার। হারুন পাবনার শহীদ এম মনসুর আলী কলেজ এবং অমিত নওগাঁ সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী।

উত্তীর্ণ হওয়ায় দৃষ্টি প্রতিবিন্ধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৪.৮৩ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে পাবনার শহীদ এম মনসুর আলী কলেজের নাদিম হোসেন। একই কলেজের কাওসার হোসেন পেয়েছে জিপিএ-৪৫.৫৮। শহীদ এম মনসুর আলী কলেজের আবদুল মতিন তুষার ও শহীদ বুলবুল সরকারী কলেজের আরিফুল ইসলাম এবং আবদুস সবুর পেয়েছে জিপিএ-৪.৫০।

নওগাঁ সরকারী কলেজের কৃষ্ণেন্দু সাহা জিপিএ-৪.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৪.৩৩ পেয়েছে
শহীদ এম মনসুর আলী কলেজের শিবলী নোমান মুরাদ। জিপিএ-৪.২৫ পেয়েছে শহীদ বুলবুল কলেজের মাহমুদুল হাসান, একই কলেজের মাহবুব জামান ও আনারুল ইসলাম।

একই কলেজের ভোলানাথ সাহা পেয়েছে জিপিএ-৪.১৭। উল্লাপাড়া বিজ্ঞান কলেজের সুমাইয়া সুমি ও বগুড়া করোনেশন ইনস্টিটিউটের রিফাত সরকার পেয়েছে জিপিএ ৩.৯২।

শহীদ বুলবুল সরকারী কলেজের চন্দন কুমার ধর জিপিএ-৩.৪২, রাজশাহীর দামকুড়াহাট কলেজে ইসতেখার হাবিব জিপিএ-৩.০০, রাজশাহীর চারঘাট আদর্শ মহিলা কলেজের মিমি খাতুন জিপিএ-২.৯২ পেয়ে উতীর্ণ হয়েছে।

অন্যদিকে, শারীরিক প্রতিবন্ধি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারী কলেজের রাসেল আলী পেয়েছে জিপিএ-৪.৮৩।

এছাড়া বগুড়ার শেরপুরের জয়লাজোয়াদ কলেজের সামিরা তাবাস্সুম জিপিএ-৪.৭৫, পাবনার বেড়া উপজেলার মঞ্জুর কাদের মহিলা কলেজের অমৃতা হালদার জিপিএ-৪.১৭, রাজশাহীর বাগমার মোহনগঞ্জ কলেজের আবদুল্লাহ আল মামুন রুমন জিপিএ-৪.০০, জেলার কাশিয়াডাঙ্গা কলেজের মৌসুমি আক্তার, পাকশি রেলওয়ে কলেজের সুমি খাতুন এবং নওগাঁর মমিন শাহানা ডিগ্রি কলেজের মেহেদি হাসান জিপিএ-৩.২৫, পাবনার এইচটি ইমাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে অনামিকা খাতুন জিপিএ-৩.০৮, নাটোরের সিংড়ার বিলহাতি কলেজের মাহবুর রহমান জিপিএ-২.৮৩, সিরাজগঞ্জের ফুলঝুড়ি ডিগ্রি কলেজের হাসি খাতুন জিপিএ-২.৭৫, নওগাঁ শেরে বাংলা কলেজের মোরশেদুল ইসলাম জিপিএ-২.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

আর কারাগারে থেকে পরীক্ষা অংশ নেয়া চার পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেবল উত্তীর্ণ হয়েছে শফিউল আলম। জিপিএ-২.৬৭ পাওয়া শফিউল রাজশাহীর বরেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী।

এদিকে, উত্তীর্ণ এসব প্রতিবন্ধি পরীক্ষার্থীর অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজশাহী বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আনারুল হক প্রমানিক। একই সঙ্গে তাদের উন্নত ভবিষ্যত কামনা করেছেন তিনি।

আপনার মন্তব্য