প্রেমিকাকে দূরে সরাতে ভয়ংকর পরিকল্পনা প্রেমিকের

0
ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, রাবি ছাত্রলীগকর্মী রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার: ঘনিষ্ট হবার পর থেকেই প্রেমিককে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। কিন্তু তাতে সাঁই ছিলোনা কথিত প্রেমিক মাহফুজুর রহমান ওরফে সারদের।

এই পরিস্থিতিতে প্রেমিকাকে সরিয়ে দিতে মরিয়া ছিলেন তিনি। একই সাথে তার অবস্থাপন্ন পরিবারের কাছ থেকে মোটা অর্থ আদায়ের ফন্দি আঁটেন।

পরিকল্পনা মাফিক প্রেমিকাকে ধর্ষণ ও সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে জিম্মি করেন তিনি।

টানা দুই দিনের রিমান্ডেও বিষয়টি স্বীকার করেন মাহফুজুর রহমান সারদ। রিমান্ড শেষে আজ বুধবার তাকে আদালতে তেলার কথা।

সারদের এই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন তারই পাঁচ ঘনিষ্ট বন্ধু। একজন বাদে মুল অভিযুক্তসহ পাঁচ জনকে এরইমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার বিকেলে আদালতে দায় স্বীকার করে পরিকল্পনার পুরো বর্ণনা দিয়েছেন দুই আসামি জয় ও জীবন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

তারা আদালতে জানিয়েছেন, ঘটনার আগের রাতেই নগরীর তালাইমারীর মোড়ের একটি চায়ের দোকানে বসে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ ও সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে জিম্মি করার পরিকল্পনা হয়।

এই মামলায় সারদের আরো দুই সহযোগী প্লাবন তালুকদার ও রাফসানকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

অভিযুক্ত মাহফুজুর রাবির অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র। প্লাবন তালুকদার ও রাফসান বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আর তারেক মাহমুদ ওরফে জয়, জীবন ও বিশাল স্থানীয় তরুণ।

২৭ জানুয়ারি এ ঘটনায় মতিহার থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। ওই রাতেই মতিহার থানা-পুলিশ সারদ, প্লাবন ও রাফসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি জীবন ও জয়কেও গ্রেফতার করা হয়।

মামলার ছয় আসামির মধ্যে এজাহারনামীয় বিশাল এখনো পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নগীর মতিহার থানার উপপরিদর্শক আবদুর রহমান জানান, আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার সময় বলেছে, তারা ঘটনার আগের দিন তালাইমারীর মোড়ের একটি চায়ের দোকানে বসে পরিকল্পনা করেন। সারদের সঙ্গে ওই সময় উপস্থিত ছিলেন তারেক মাহমুদ ওরফে জয়, জীবন, রাফসান ও প্লাবন তালুকদার। পরে তারা এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করে নেন বিশালকে।

সারদ তখন বন্ধুদের জানান, ওই ছাত্রী তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি চান না। তাই তাকে (ছাত্রী) দূরে সরিয়ে দিতে ও তার ধনী পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতে।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে আবদুর রহমান জানান, পাঁচ মাস আগে ওই ছাত্রীর সঙ্গে মাহফুজুর রহমানের বন্ধুত্ব হয়। এরপর তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক হয়।

গত ২৪ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল স্কুলের পাশে বসে ওই ছাত্রী ও সারদ গল্প করছিলেন। এ সময় প্লাবন ফোনে সারদকে তাদের ভাড়া বাসায় আড্ডা দিতে যেতে বলেন।

রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই ছাত্রীকে নিয়ে প্লাবনের ভাড়া বাসায় যান সারদ। কিছুক্ষণ পর প্লাবন তাদের দুজনকে গল্প করতে বলে বাইরে চলে যান। একা পেয়ে সারদ ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।

এ সময় জীবন ও অজ্ঞাতনামা দুজন এসে ‘তোরা অসামাজিক কাজ করেছিস’ বলে সাদা কাগজে তাদের দুজনের সই নেন। পরে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কাছে থাকা প্রায় চার হাজার টাকা আদায় করেন ও-ই তিন জন।

এই ঘটনার পর এই ছাত্রী যাতে মামলা করতে না পারে সেজন্য তারা সারদের সাথে ওই ছাত্রীকে ‘ওপেন’ শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন। ওই সময় ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও ভিডিও ধারণ করা হয়।

আপনার মন্তব্য