ফাহাদকে সবচেয়ে বেশি মারধর করেন রাজশাহীর অনিক

26042

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে সবচেয়ে বেশী মারধর করেন রাজশাহীর অনিক সরকার (২২)।

অনিক সরকার মোহনপুর উপজেলার বড়ইকুড়ি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তার মায়ের নাম শাহিদা বেগম। এলাকায় তার বাবার ব্যবসা আছে।

অনিক সরকারের চাচা বেলাল হোসেন রাজশাহী জেলা যুবলীগের সহসভাপতি। তার মামা মোমিন শাহ গাবরু  উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মোহনপুর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

দুই ভাইয়ের মধ্যে অনিক সরকার ছোট। মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর ঢাকায় একটি বেসরকারি কলেজে ভর্তি হন অনিক সরকার। সেখান থেকে এইচএসসি পাস করার পর বুয়েটে ভর্তি হন তিনি।

মোহনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক জানান, অনিক সরকার উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটির কোন পদে নেই।

তবে এলাকায় আসলে মাঝে মধ্যে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক বিষয়ে খোঁজখবর নিতেন। তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান বলেও জানান আবদুর রাজ্জাক।

ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে নিহতের বাবা বরকত উল্লাহর দায়ের করা মামলার ৩ নম্বর আসামী অনিক সরকার। 

বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলে।

অভিযুক্ত অনিক সরকার বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে ছিলেন। 

গণমাধ্যম বলছে, ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি ও প্রত্যক্ষদর্শীর ফোনালাপে জানা গেছে, শিবির সন্দেহেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ফাহাদকে।

এতে ছাত্রলীগের সকাল, মনির, তানভীর, জেমি, তামিম, সাদাত, রাফিদ, তোহা, অনিকসহ ১০-১২ নেতাকর্মীর জড়িত থাকার খবর পাওয়া গেছে। 

এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারধর করেছে মদ্যপ অনিক। গত রোববার রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ফাহাদের ওপর চলে নির্যাতন।

সোমবার রাতে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ১১ জনকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। তারা হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগঠিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, সদস্য মুনতাসির আল জেমি, এহেতসামুল রাব্বি তানিম ও মুজাহিদুর রহমান।

উল্লেখ্য, রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা থেকে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

নিহত ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় রোববার রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষের ভেতর নেতাকর্মীরা ওই ছাত্রের উপর পাষবিকতা চালান।

আপনার মন্তব্য