বাণিজ্যিক মাল্টা চাষে লাভের আশা কৃষকের

110
বাণিজ্যিক মাল্টা চাষে লাভের আশা কৃষকের

মিজানুর রহমান: দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলখ্যাত রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে মালটা চাষ। ইতোমধ্যেই এই মালটা চাষ করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছে জেলার চাষিরা। এই ফল খেতেও অনেক সুস্বাদু, তাই আগ্রহ নিয়ে অনেকে এগিয়ে আসছে মালটা চাষে।

আগে অনেকেই দেখা গেছে শখের বশে বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা টবে মালটা গাছ লাগাতো। কিন্তু এখন বাণিজ্যিকভাবে এটির চাষ হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

এই প্রথমবারের মতো উপজেলার তানোর-রাজশাহীর মহাসড়কের পাশে চাঁন্দুড়িয়া গ্রামের মাঠে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে মালটার। অন্যান্য ফল চাষের পাশাপাশি এবার চাঁন্দুড়িয়ার দেওতলার চাষি আব্দুল রাজ্জাক ১ বিঘা ৫ কাঠা জমিতে চাষ করেছেন মালটার। ব্যবসার পাশাপাশি রাজ্জাক মালটা চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন।

মে-জুন মাসে মাল্টার চারা রোপণ করে ২৪ মাস পর থেকে ফল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি গাছে মালটা ধরেছে ৭০/৮০টি। এক বিঘা জমিতে ১০০টি মালটা গাছ রোপণ করা হয়েছে।

রাজ্জাককে প্রতিটি মালটার চারা কিনতে হয়েছে ১০০ টাকা দরে। তাছাড়া মালটা ক্ষেতে সাথী ফসলও করা যায়। এখন মালটায় পাক ধরেছে। ২/১ সপ্তাহের মধ্যে মালটা বাজারজাত করতে পারবেন তিনি।

রাজ্জাক জানান, এ পর্যন্ত তার এক বিঘা জমিতে চাষ করতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর এ জমি থেকে মালটা বিক্রি করতে পারবেন এক লাখ টাকার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, অন্যান্য ফলজ চাষের চেয়ে কম খরচে এবং অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় চাষিরা ঝুঁকছে বারি মালটা-১ চাষে।

এবার এ উপজেলায় ৫৫ বিঘা জমিতে ৩৫ জন চাষি বারি মালটা-১ চাষ করেছে। বরেন্দ্রভূমিতে এই মালটা চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

নানাগুণ আর ভিটামিন সমৃদ্ধ মালটা ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে তানোরের চাষিরা। তবে সরকারিভাবে চাষিরা মালটা চাষে আর্থিক সহায়তা পেলে এ উপজেলায় নিশ্চিত মালটা চাষ বৃদ্ধি পাবে এমনটিই আশা করছেন চাষিরা।

আপনার মন্তব্য