ভোট উৎসব শুরু, প্রার্থীরা প্রচারণায়

33

স্টাফ রিপোর্টার: কি শহর, কি অজো পাড়া গাঁ- রাজশাহীর সবখানেই শুরু হয়েছে ভোট উৎসব। প্রতীক পেয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। প্রায় এক দশক পর এমন উৎসবে আগ্রহ বেড়েছে ভোটারদের।

এবার রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ২৫ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১০টার পর থেকে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন নির্বাচনের রিটার্র্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আবদুল কাদের। দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যায় এই কার্যক্রম।

এদিকে, দলীয় প্রার্থীরা আগে থেকে তাদের প্রচারপত্র প্রস্তুত রেখেছিলেন। সকাল ১০টার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় প্রচারপত্র টাঙাতে শুরু করেন কর্মী-সমর্থকরা। কোথাও কোথাও আগেভাগেই ঝোলানো হয়েছে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন। মোড়ে মোড়ে তৈরী হচ্ছে নির্বাচনী ক্যাম্প। সবত্রই এখন ভোটের উৎসব।

এদিকে, দুপুর পর্যন্ত ঢিমেতালে প্রচারণা চললেও বিকেলের দিকে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। বেলা ২টার পর থেকে শুরু হয়েছে মাইকিং। নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট টাইছেন প্রার্থীরা।

এর আগে নির্বাচনে অংশ নিতে ৬৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তবে জমা দেন এদের ৫৩ জন। আর যাচাই-বাছাইয়ের বাধা পার হন ৩০ প্রার্থী। পরে আপীলে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন কয়েকজন প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে এসে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন সাত প্রার্থী।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছে ৫ প্রার্থী। এদের মধ্যে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরী ও বিএনপির ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মধ্যে। সোমবার সকালে গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ও মাটিকাটায় নির্বাচনী সভা করেছেন ওমর ফারুক চৌধুরী। আর আমিনুল হক প্রচারণার শুরু করেছেন গোদাগাড়ী পৌর এলাকার এক নম্বর ওয়ার্ড থেকে।

রাজশাহীতে নৌকা ভ্রমন বাদশাররাজশাহী-২ (সদর) আসনে নির্বাচনে রয়েছে চার প্রার্থী। এদের মধ্যে মহাজোটের ফজলে হোসেন বাদশা এবং বিএনপির মিজানুর রহমান মিনুর মধ্যে মূল লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছেন ভোটাররা। সকালে প্রতীক পাবার পর কোর্ট এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন বাদশা।

এর আগে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরে শ্রদ্ধা জানান তিনি। অন্যদিকে, নগরীর শহমখদুম (র.) মাজার জিয়ারত করে মঙ্গলবার ভোর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেবেন মিজানুর রহমান মিনু।

পাঁচ জন প্রার্থী রয়েছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে। এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা আওয়ামী লীগের আয়েন উদ্দিন ও বিএনপির অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের মধ্যে। প্রতীক পেয়ে নির্বাচনে এলাকায় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নেমে পড়েছেন এরা। নওহাটা পৌর এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন মিলন।

ভোট উৎসব শুরু, প্রার্থীরা প্রচারণায়এছাড়া ভবানীগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ও দুর্গাপুর মহিলা কলেজ এলাকা থেকে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান পপ্রচারণা শুরু করেছেন। প্রচারণায় নেমেছেন রাজশাহী-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তবে ভোটের মাঠে নেই এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ।

সর্বশেষ রোববার তাকে আকেটি মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। তার হয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রচারণায় নির্বাচনী এলাকায় রয়েছেন রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির আবু হেনা ও রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা

এদিকে, নির্বাচনে আচরণবিধি দেখভালে ২৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বপালন করছেন রাজশাহীর ছয় সংসদীয় আসনে। এর মধ্যে নয় উপজেলায় অন্তত তিন জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বপালন করছেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক পারভেজ রায়হান কলেন, আচরণবিধি দেখভালে দায়িত্বপালন করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। কোথাও কোন ধরণের বিধি ভঙ্গের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রথম দিকে এমন কোন অভিযোগ আসেনি বলে জানান তিনি।

এদিকে, রাজশাহীর ভোটের মাঠে নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা ও নগর পুলিশের মুখপাত্র আবদুর রাজ্জাক খান এবং ইফতেখায়ের আলম বলেন, পোষাকে ও সাদা পোষাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বপালন করছেন। এছাড়া জেলা ও নগর পুলিশের আলাদা কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোন ধরণের সহিংসতা বরদাস্ত করা হবেনা বলেও জানান এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

এবারের নির্বাচনে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজশাহীতে মোট ৬৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তবে জমা দেন এদের ৫৩ জন। আর যাচাই-বাছাইয়ের বাধা পার হন ৩০ প্রার্থী। চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছে ২৫ প্রার্থী।

আপনার মন্তব্য