রাজশাহীর আম বাণিজ্য শুরু

45
রাজশাহীর আম বাণিজ্য শুরু

বাবর মাহমুদ: ফলের রাজা আম উঠতে শুরু করেছে বাজারে। বুধবার মৌসুমের প্রথম গুটি জাতের আম গাছ থেকে নামিয়েছেন চাষি ও বাগান মালিকরা। এর মধ্যদিয়ে শুরু হলো এই মৌসুমের আম বাণিজ্য।

কয়েক বছরের টানা লোকসানের পর এবার অন্তত: ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা চাষি ও বাগান মালিকদের।

আম চাষি ও বাগান মালিকরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই রাজশাহীর আম নিয়ে অপপ্রচার চলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এই অঞ্চলের আমের বাজার। তবে এবার সেই শঙ্কা নেই। এবার ফলনও বেশ ভালো। আর রাজশাহীর আমের বাণিজ্য হবে জমজমাট।

বুধবার (১৫ মে) থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে দেশি গুটি জাতের আম। প্রথম দিনই বিপুল পরিমাণ গুটি আম উঠেছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। তবে সুস্বাদু আম পেতে আরো ৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে ভোক্তাদের।

আগামী ২০ মে বাজারে নামবে গোপাল ভোগ জাতের আম। এরপর ২৫ মে রাণী প্রসাদ ও লক্ষণ ভোগ এবং ২৮ মে নামবে হিম সাগর। এছাড়া ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ও ফজলি ১৬ জুন এবং আশ্বিনা নামানো শুরু হবে ১ জুলাই থেকে।


এদিকে, অপরিপক্ক ও কেমিক্যাল মুক্ত আম বাজারজাত নিশ্চিতে বাগান ও আড়ৎ গুলোতে সার্বক্ষনিক নজরদারীতে চালিয়ে যাচ্ছে মাঠ প্রশাসন। এর আগে চাষি ও বাগান মালিকদের এনিয়ে দফায় দফায় বৈঠকও করেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ।

এদিকে, আম বাণিজ্য শুরুর প্রথম দিনে রাজশাহীর অন্যতম আম বাজার বানেশ্বর বাজারের আড়ৎগুলোতে উঠেছে বিপুল পরিমাণ গুটি আম। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে সেগুলো নিয়ে যাচ্ছেন পাইকাররা। প্র্রথম দিনে প্রতিমন গুটি জাতের আম বিক্রি হয়েছে দেড় হাজার থেকে ১৬শ’ টাকায়।

ফলের রাজা আম উঠতে শুরু করেছে বাজারে। বুধবার মৌসুমের প্রথম গুটি জাতের আম গাছ থেকে নামিয়েছেন চাষি ও বাগান মালিকরা। এর মধ্যদিয়ে শুরু হলো এই মৌসুমের আম বাণিজ্য।

তবে এখনো জমেনি আম বাজার। বানেশ^র বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আম কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আড়ৎতদাররা। আম রাখার জায়গায় চলছে ধোয়া-মোছা। কোথাও কোথাও গড়ে উঠছে অস্থায়ি আড়ৎ ঘর। কয়েক হাজার মৌসুমি শ্রমিক কাজ করেন আমের আড়তে। শেষ মুর্হূতে চলছে শ্রমিকদের সাথে আড়ৎ মালিকদের মজুরি নিয়ে দরদাম।

বানেশ^রের আম আড়ৎদার তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, বুধবার সকাল থেকেই বাজারে এসেছে দেশী গুটি জাতের নাম। কেনাবেচাও শুরু হয়েছে সকাল সকাল। বাচারে আমের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। প্রথম দিন প্রতিমন গুটি আম বিক্রি হয়েছে অন্তত: দেড় হাজার টাকায়।


সিরাজগঞ্জ থেকে বানেশ্বরে আম কিনতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন। তিনি বলেন, আম কেনাকাটা শুরুর আগের দিনই তিনি মোকামে চলে এসেছেন। প্রথম দিনেই কিছু আম কিনেছেন। সেগুলো পাঠিয়ে দিয়েছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। পুরো মৌসুমজুড়ে প্রত্যেকবছর আম ব্যবসা করেন তিনি।

জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান বলেন, কোন আম কখন পাড়তে হবে সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আম চাষি, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের। অপপিক্ক আম বাজারজাত রোধে সার্বক্ষনিক নদরদারিতে থাকতে আম আড়ৎ গুলো। এ ছাড়া কোথাও কোনো অনিয়মের খবর পেলে তৎক্ষনিক আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের জানিয়েছেন, বেধে দেয়া সময়সীমার আগে যাতে কেউ আম নামাতে না পারেন এজন্য বাগান তদারকি করছে ইউএনও এবং সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। দেশ বিখ্যাত রাজশাহীর আমের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতেই এ উদ্যোগ।


রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন জানান, কোন আম কখন বাজারে নামবে সেই বিষয়টি মাখা রাখতে হবে ভোক্তাদেরই। আমের প্রকৃত স্বাদ পেতে এর বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, এবারের আবহাওয়া আমের অনুকূলে ছিলো। ফলে আম চাষে এবার চাষি ও বাগান মালিকদের খরচ হয়েছে তুলনামূলক কম। তাছাড়া আমের ফলন হয়েছে সন্তোষজনক। সময়মত আম বাজারজাত করা গেলে রাজশাহীর আমের স্বাদ পাবেন ভোক্তারা।

ফল গবেষনা কেন্দ্র বলছে, রাজশাহী জেলায় এবার আমের চাষ হয়েছে সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে। আর ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২লাখ সাড়ে ১৩হাজার টন।

অন্যদিকে, আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ এবং নাটোর জেলায় সর্বশেষ গত ২০১৭-২০১৮ কৃষি বর্ষে আমবাগান ছিলো ৭০ হাজার ৩৪৬ হেক্টর। তা থেকে আম উৎপাদন হয় ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬১ টন। এটিই এবছরের লক্ষ্যমাত্রা।


এর আগে ২০১১-২০১২ কৃষি বর্ষে রাজশাহী অঞ্চলে আমবাগান ছিলো ৪২ হাজার ৪১৭ হেক্টর। সেইবার আম উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ টন। এছাড়া ২০১৪-২০১৫ কৃষি বর্ষে ৫৪ হাজার ৭২২ হেক্টর বাগানে আম উৎপাদন হয় ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৩৬ টন।


সীমিত হলেও গত কয়েক বছর ধরেই এই অঞ্চল থেকে আম রপ্তানী হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। আর এ জন্য রাসায়নিক মুক্ত আম উৎপাদন করছেন চাষিরা। ভালো দাম পাওয়ায় এবারো প্রস্তুত হচ্ছেন তারা।

আপনার মন্তব্য