শতবর্ষের বরেন্দ্র জাদুঘর এখন ‘জ্ঞান ভাণ্ডার’

47
শতবর্ষের বরেন্দ্র জাদুঘর এখন ‘জ্ঞান ভাণ্ডার’

মোফাজ্জল বিদ্যুৎ : রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্রে ঐতিহ্যের বরেন্দ্র জাদুঘর। ১৯১০ সালে নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজ পরিবারের জমিদার শরৎ কুমার রায়ের প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষের এই জাদুঘরটি বর্তমানে ১০৮ বছর পার করেছে। রাজশাহী শহরে স্থাপিত এটিই বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর। এতে প্রত্ন সংগ্রহে সমৃদ্ধ।

বরেন্দ্র জাদুঘরের সংগ্রহ সংখ্যা ৯ হাজারের ও অধিক। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছিলো সংগ্রহশালা। বলা হয়ে থাকে,প্রত্নতত্ব সংগ্রহের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সংগ্রহ শালা এটি। এখানে হাজার বছর আগের সিন্ধু সভ্যতার নির্দশন রয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়এটি পরিচালনা করে থাকে।

কালের সাক্ষী এই জাদুঘর তার অদম্য জ্ঞান পিপাসা এবং পুরাত্বের প্রতি গভীর অনুরাগ এ প্রচেষ্টাকে সার্থক করে তুলেছে। শত বছর পার হলেও কমেনি এর সৌন্দর্য,কমেনি আর্কষণ করা বা দর্শনার্থীদের কাছে ডাকার প্রচেষ্টা। তাইতো প্রতিদিন শত শত জ্ঞান পিপাসু আর ভ্রমণ পিপাসুরা ভীড় জমান জাদুঘর চত্বরে।

ভীড় জমান বিচিত্র ধরনের মানুষগুলোও। জাদুঘরের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতে পাশেই দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যাচ্ছিলো।একটু কাছে যেতেই বুঝা গেলো তারা সবাই শিক্ষার্থী। কথা হলো রোকনুজ্জামান,নাজমুল ও রাসেলের সাথে।

তারা সবাই নিউ গভ:ডিগ্রী কলেজ ও সরকারী সিটি কলেজের শিক্ষার্থী। তারা জানান, আজকে আমরা প্রথম জাদুঘরে এসেছি। এখানে প্রত্নতত্বের ও সিন্ধু সভ্যতার অনেক নির্দশন রয়েছে। যা দেখে আমরা পূর্বের ইতিহাস উপলব্ধি করতে পেরেছি।

বগুড়ার দর্শনার্থী আব্দুর রহিম জানান, রাজশাহীতে বরেন্দ্র জাদুঘর আছে সেটা জানতাম। কিন্তু আজ দেখে মনে হলো জ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে কিছু জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছি। এখানে প্রত্নতত্ব নির্দশন সহ মুঘল সম্রাটের ও ইতিহাস জানতে পেরেছি।

রাজ্যপালের ভাতুরিয়া শিলালিপি, প্রস্তরে খোদাই করা আরবীয় ক্যালিগ্রাফ ও কালীর মূতিসহ নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন,এসব মূতির্তে তাদের নাম দেওয়া আছে খুবই ছোট অক্ষরের। যা আমাদের জন্য বুঝে ওঠা খুবই কষ্টকর। মূর্তি সর্ম্পকে গাইড লাইন দেওয়ার নির্দিষ্ট জনবল থাকলে দর্শনার্থীদের বুঝে ওঠা আরো সহজ হবে।

জাদুঘরের উপ-প্রধান সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বর্তমানে এখানে প্রায় ১১ হাজার নির্দশন রয়েছে। যা দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থী ও জ্ঞানপিপাসুরা ভীড় জমান। দিনে দিনে বেড়েই চলেছে এই ভিড়। প্রতিদিন ৩০০শ-৪০০শ দর্শনার্থী বেড়াতে আসেন এখানে।

মূর্তি সর্ম্পকে গাইড লাইন দেওয়ার নির্দিষ্ট লোকবল আছে কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে মূর্তি সম্পকে গাইড লাইন দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জনবল নেই।

আপনার মন্তব্য