শিক্ষাবোর্ড সচিবের কক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা ‘গায়েব’

51
যে কারণে খাতা দেখার সুযোগ হারাচ্ছেন রাজশাহী বোর্ডের ২০০ পরীক্ষক
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক তরুণ কুমার সরকারের কক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ‘গায়েব’ হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এই ঘটনা ঘটলেও পরে টের পান সচিব।
দপ্তরের তিন মাস্টাররোল কর্মচারীকে এ জন্য দায়ি করেছেন সচিব। টাকা উদ্ধারে তিনি কর্মীদের চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ বোর্ড কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা। তারা নগদ পাঁচ লাখ টাকা সচিবের কক্ষে রাখার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

সচিবের কক্ষে কর্মরত একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের যে কোনো দিন সচিব তরুন কুমার সরকারের কক্ষ থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা গায়েব হয়। টাকা ফাইল কেবিনেটের একটি ড্রয়ারে রাখা ছিল।

পরে টাকা গায়েবের ঘটনাটি সচিবের নজরে আসে। তখন তিনি তার কক্ষে কর্মরত তিনজন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। দেড় মাস ধরে তিন কর্মচারীকে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য অব্যাহত চাপের মধ্যে রেখেছেন সচিব।

তবে সচিব তরুণ কুমার সরকার টাকা গায়েবের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি মনে করেছিলাম টাকা গায়েব হয়েছে। পরে দেখি ঠিক আছে। কক্ষে টাকা রাখার নিয়ম আছে কি’না- এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি সচিব।

তবে বোর্ডের উপসচিব ও উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি বিধান অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা নগদ টাকা তার কক্ষে রাখতে পারেন না। যে কোনো কাজের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের বিল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারেন।

কিন্তু নগদ ৫ লাখ টাকা তিনি কীভাবে নিজ কক্ষের ফাইল কেবিনেটে রাখলেন, এটিই প্রশ্ন। এছাড়া টাকা গায়েবের ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপ নিতে তিনি কোনো জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেননি।

আইনি জটিলতা এড়াতেই তিনি ওপথে পা মাড়াননি। এছাড়া বোর্ড সচিব বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেননি।

জানতে চাইলে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাকে এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলেননি বা জানাননি। যার (সচিব) রুম থেকে টাকা গায়েব হয়েছে তিনিই এ ব্যাপারে আইনত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

আপনার মন্তব্য