সবজি উৎপাদনে শীর্ষে রাজশাহী

61
সবজি উৎপাদনে শীর্ষে রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টার: সবজি উৎপাদনে শীর্ষে উঠে এসেছে বরেন্দ্রভূমি খ্যাত রাজশাহী জেলা। গেল অর্থবছরে উৎপাদিত সবজির হিসাবে এই স্থান অর্জন করেছে রাজশাহী। গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকার খামারবাড়িতে এই অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। যদিও আগের অর্থবছরে শীর্ষ তিনটি জেলার স্থানেও ছিল না এই জেলা।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, লাভজনক হওয়ায় সবজি চাষে ঝুঁকছেন রাজশাহীর চাষিরা। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলনও মিলেছে আশানুরূপ। বাজারে মিলছে ভালো দাম। এসব কারণেই সবজি উৎপাদন বাড়ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সবজি উৎপাদনে জমির পরিমাণ বৃদ্ধি ও হেক্টর প্রতি সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সারাদেশের মধ্যে সবজি উৎপাদনে শীর্ষ জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে রাজশাহী।

এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজশাহী প্রথম তিনটি জেলার ভেতরেও ছিল না। এবার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাতক্ষীরা জেলা।

কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজশাহীতে হেক্টর প্রতি সবজি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে ২১ হাজার ৭২৩ হেক্টর জমিতে মোট সবজি উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৬৪ মেট্রিক টন। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জমির পরিমাণ ও উৎপাদন দুই-ই বেড়েছে।

হেক্টর প্রতি সবজি উৎপাদন বেড়েছে ১ দশমিক ৪৩ মেট্রিক টন। আর জমির পরিমাণ বেড়েছে ৫১২ হেক্টর। অর্থাৎ গত অর্থবছরে রাজশাহীতে ২২ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন।

উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, রাজশাহীর আবহাওয়া শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষকরাও সবজি উৎপাদনের বিষয়ে খুবই সচেতন। তারা জমিতে সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করেন। পোকামাকড় দমনের বিষয়েও সচেতন তারা। তাই এই অর্জন। তবে এই স্বীকৃতি মিলেছে আলুর উৎপাদন ছাড়াই। আলু যুক্ত করা হলে গড় উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর কৃষকরা এখন দানাজাতীয় শস্যের চেয়ে সবজি ও ফলমূল উৎপাদনের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কারণ-এই দুটোই লাভজনক। এগুলো চাষ করে কৃষকরা যেন লাভবান হন সে জন্য কৃষি কর্মকর্তারাও কাজ করে যাচ্ছেন।

উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ শেখাচ্ছেন। রাজশাহীর অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে সফলতার এই ধারা তারা ধরে রাখতে চান।

আপনার মন্তব্য