সৌর বিদ্যুতের আলোয় ঝলমলে চারঘাট

35

স্টাফ রিপোর্টার, চারঘাট:  সৌর বিদ্যুতের আলোয় ঝলমলে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার গ্রামাঞ্চল। সন্ধ্যা নামলে এখন আর নিকশ কালো অন্ধকার নামেনা, জ্বলে উঠছে সৌর বিদ্যুতের আলো। এতে আলোকিত হয়ে উঠেছে গ্রামের মেঠোপথও।

 গ্রামের বিভিন্ন মোড় ও ছোটখাটো বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জ্বলে উঠছে সৌর বিদ্যুতের আলো। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ৫ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬৪৪টি সোলার প্যানেলের বাতি বসানো হয়েছে।

একটা সময় ছিল যখন সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের মেঠোপথ মানেই ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। অন্ধকারে পথ চলতে গা শিউরে উঠতো। রাত হলে রাস্তায় দেখা মিলত না কোনো মানুষের। গ্রামের সে চিত্র এখন অনেকটাই পাল্টাতে শুরু করেছে। গ্রামের মেঠোপথ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির এখন রাতে সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে।

সরেজমিন জানা গেছে, চারঘাট পৌরসভাসহ উপজেলার সদর, ইউসুফপুর, সরদহ,শলুয়া, নিমপাড়া ও ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৬৪৪টি স্থানে সোলার হোম সিস্টেম (ডিসি), সোলার এসি সিস্টেম ও স্টিট সৌর বিদ্যুতের বাতি বসানো হয়েছে।

এসব বাতির আলোয় আলোকিত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল। যার সুফল পাচ্ছেন চারঘাটবাসী। প্রধানমন্ত্রীর ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার এখন গ্রামীণ সড়কে সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সৌর বিদ্যুতের এ সড়কবাতি বসানো হয়েছে।

নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, তার ইউনিয়ন এলাকার যেখানে মানুষের চলাচল রয়েছে সেসব স্থানে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে আলো পৌঁছানো হচ্ছে। রাতের আঁধারে সৌর বিদ্যুতের আলোয় নিরাপদে মানুষ চলাচল করছে। রাস্তাগুলো আলোকিত হওয়ায় এখন রাতে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশেই কমে গেছে। এখন রাত নামলেই আলোয় আলোকিত হচ্ছে গ্রামের মেঠোপথ।

ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী বুলবুল জানান, বর্তমান সরকার জনগণের জন্য ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। একসময় গ্রামে বিদ্যুৎ থাকলেও রাস্তা বা এলাকার মোড়ে কোনো আলোর ব্যবস্থা ছিল না। গত বছর থেকে এই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে গ্রামের রাস্তায় লম্বা খুঁটির সাহায্যে স্ট্রিট লাইট দেয়া হয়েছে। এতে গ্রামের চিত্রটা পাল্টে গেছে। এখন রাতে গ্রামে আলোময় হয়ে থাকছে। গ্রামের মানুষ রাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন। এমনকি ওই বাতির নিচে মানুষ বসে থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজও সেরে নিচ্ছেন

চারঘাট উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানান, উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ২৫০টি পয়েন্টে সোলার প্যানেলের বাতি বসানো হয়েছে।বর্তমান সরকারের সোলার স্থাপন প্রকল্পটি একটি যুগান্তকারী প্রকল্প। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে মানুষের পাশাপাশি পরিবেশও উপকৃত হচ্ছে।

এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সৌর বিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। এটা সরকারের একটি মহতী উদ্যোগের ফল। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওই সব লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এতে উপজেলাবাসী নিরাপত্তাসহ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারছেন।

আপনার মন্তব্য