আমে স্বপ্ন বুনছেন রাজশাহীর চাষি

37
আমে স্বপ্ন বুনছেন রাজশাহীর চাষি

স্টাফ রিপোর্টার: আমে স্বপ্ন বুনছেন রাজশাহী অঞ্চলের চাষি ও বাগান মালিকরা। সম্প্রতি বৃষ্টিতে বাড়িয়েছে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। ওই সময় বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে কিছু মুকুল ঝরেও গেছে। কিন্তু তাতেও ক্ষতি দেখছেনা কৃষি দপ্তর।

মুকুল এসেছে আমের রাজধানী খ্যাত রাজশাহীর প্রায় ৯০ শতাংশ আমবাগানে। চারদিকে কেবল ভ্রমরের গুঞ্জন। এ মাসের মধ্যে চলে আসবে শতভাগ মুকুল। আর তাই আম বাগানে চাষি ও বাগান মালিকদের দেখা যাচ্ছে এখন পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাতে।

তবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই দিন রাজশাহীর পুঠিয়া ও নাটোরের বিভিন্ন এলাকায় স্মরনকালের সর্বোচ্চ শিলাবৃষ্টি হয়। আম চাষিরা বলছেন, এতে প্রচুর মুকুল ঝরে গেছে। এতে ফলন বিপর্যায়ের শঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

তবে আমে ক্ষতির কোন পরিসংখ্যান নেই রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, এবার আমের মুকুল কিছুটা বিলম্বে এসেছে। ফলে মুকুলের কোন ক্ষতি হয়নি। বরং লাভই হয়েছে আম চাষিদের।

বসন্তের শুরুতে রাজশাহীতে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি

অন্যদিকে, শিলাবৃষ্টিতে মুকুল ঝরে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, কিছু মুকুল ঝরেছে এটা ঠিক, তবে যে মুকুল আছে তাতে ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

এই ফল গবেষক আরো বলেন, এখন চাষিরা অনেক বেশি সচেতন। বছরজুড়েই বাগানের পরিচর্যা চলছে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে চাষ হচ্ছে আম। এসেছে হাইব্রিডসহ নানান আমের জাত। ফলে এখন আর অনইয়ার বা অফ ইয়ার নেই।

এই মুহূর্তের বাগান পরিচর্যা বিষয়ে তিনি বলেন, মুকুল আসার আগেই প্রতি লিটার পানিতে আধা মিলিলিটার ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের তরল এবং দুই গ্রাম ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। আম গুটি হওয়ার পরও আরেক দফা একই মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া আমের বয়স ৪৫ দিন হলে আগ্রহী চাষিরা আরেক দফা কীটনাশক প্রয়োগের পর ফ্রুট ব্যাগিং করতে পারেন।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ এবং নাটোর জেলায় সর্বশেষ গত ২০১৭-২০১৮ কৃষি বর্ষে আমবাগান ছিলো ৭০ হাজার ৩৪৬ হেক্টর। তা থেকে আম উৎপাদন হয় ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬১ টন। এটিই এবছরের লক্ষ্যমাত্রা।

এর আগে ২০১১-২০১২ কৃষি বর্ষে রাজশাহী অঞ্চলে আমবাগান ছিলো ৪২ হাজার ৪১৭ হেক্টর। সেইবার আম উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ টন। এছাড়া ২০১৪-২০১৫ কৃষি বর্ষে ৫৪ হাজার ৭২২ হেক্টর বাগানে আম উৎপাদন হয় ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৩৬ টন।

সীমিত হলেও গত কয়েক বছর ধরেই এই অঞ্চল থেকে আম রপ্তানী হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। আর এ জন্য রাসায়নিক মুক্ত আম উৎপাদন করছেন চাষিরা। ভালো দাম পাওয়ায় এবারো প্রস্তুত হচ্ছেন তারা।

আপনার মন্তব্য