সময়ের সংলাপ ।। মলয় ভৌমিক

11

মলয় ভৌমিক একজন বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা, নির্দেশক, ও শিক্ষাবিদ। বাংলাদেশে পথনাটক আন্দোলন, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে মুক্ত নাটক আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। পেশায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক হলেও তিনি একজন নাট্য ব্যক্তিত্ব হিসাবেই বেশি পরিচিত। সমকালীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই গুণি অধ্যাপক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিত লিখছেন ‘সময়ের সংলাপ’।

রাম: শিশি-বোতলের দোকান দিলি নাকি?


বুদে: না, এটা রসায়ন ল্যাব। পৃথিবীকে মহাসঙ্কটের
হাত থেকে বাঁচাতে মহাগবেষনা করছি।


রাম: কীরাম?


বুদে: কীভাবে সবকিছু অভিন্ন করা যায়, এ হলো
সেই সাধনা!


রাম: সবকিছু অভিন্ন! তারমানে মানুষের চেহারা,
শিক্ষাদীক্ষা, জ্ঞানগম্মি, রুচিপছন্দ, আচার-
আচরণে কোনো বৈচিত্র্য থাকবে না? কিন্তু
ভিন্নতা না থাকলি বাঁচার আনন্দ কোয়ানে?


বুদে: আনন্দের দরকার কী? বেঁচে থাকলেই হলো।
সবাই একরকম হওয়া মানে রেষারেষি,
বৈষম্য, এসব নেই। একেবারে ঝঞ্ঝাটমুক্ত
জীবন।


রাম: ইডা কীভাবে সম্ভব?


বুদে: এটা নতুন কিছু নয়। ‘ক্লোন’ কথাটা তো
শুনেছেন। তবে আমার গবেষণা ক্লোন
থেকেও প্রাগ্রসর। মানে একধাপ এগিয়ে।


রাম: সিডা কীরাম?


বুদে: সবাইকে অভিন্ন করা হবে কেবল তাই নয়,
কেউ যাতে ফাল পারতে না পারে সেজন্য
মানুষের আচরণকে মাত্র দুএকটি কর্মকাণ্ডের
মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হবে।


রাম: কী কতিছিস বুজোয়ে কদিনি?


বুদে: ধরুন সব মানুষকে ছাগলের তিন নম্বর
বাচ্চা বানিয়ে ফেলা হলো। এখন ওরা কেবল
দুধ খাওয়ার জন্য লেজনেড়ে লাফাবে আর
থেকে থেকে ম্যা–হ্যা–হ্যা–হ্যা করে চেঁচাবে।


রাম: তারপর?


বুদে: তারপর ম্যা–হ্যা–হ্যা–হ্যা–

কার্টুন: শমীন্দ্র ভৌমিক

আপনার মন্তব্য