ইতিহাসের টেস্টে ‘সম্ভ্রমহানি’ টাইগারদের

18
ইতিহাসের টেস্টে 'সম্ভ্রমহানি' টাইগারদের

খেলাধুলা ডেস্ক: গোলাপি বলে দিবা-রাত্রির টেস্ট। ইতিহাসের পাতায় উঠে এলো বাংলাদেশ-ভারতের নাম।

তবে এই ইতিহাস নিজেদের করে নিতে পারনি সফরকারী টাইগাররা।

ভারত ম্যাচ জিতে নিয়েছে এক ইনিংস এবং ৪৬ রানের ব্যবধানে।  প্রথম ম্যাচেও হয়েছে লজ্জাজনক হার।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অতিথিদের ‘সম্ভ্রমহানি’ করে ছাড়লো ভারতীয়রা।

রোববার তৃতীয় দিনের শুরুতেই অনুমিতভাবেই ইবাদত হোসেন (০) ফিরে যান। 

উমেশ যাদবের শরীর তাক করে আসা বল সামলাতে না পেরে স্লিপে বিরাট কোহলির হাতে ধরা পড়েন তিনি। 

৯৬ বলে ৭৪ রান করা মুশফিকও উমেশ যাদবের বলে রবীন্দ্র জাদেজার তালুবন্দি হন। এরপর ধসে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। 

১৩ বলে ১৬ করা আল-আমিন হোসেন আউট হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ভারত। 

আগের দিন ৩৯* রানে অপরাজিত থাকা মাহমুদউল্লাহ আর নামতে পারেননি। ৯ উইকেটে ১৮৯ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। ভারত ম্যাচ জিতে নেয় ইনিংস এবং ৪৬ রানের ব্যবধানে।

ঐতিহাসিক এই টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছিল ১০৬ রান। এরপর ভারত নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ৩৪৭ রানে। 

গতকাল ভারত প্রথম ইনিংস ঘোষণা করার পর শংকা জেগেছিল, ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্ট দুই দিনেই শেষ হয়ে যায় কিনা। 

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা দেখে শংকাটা আরও দৃঢ় হয়। মাত্র ১৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল সফরকারীরা। 

পরে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর জুটিতে ধস ঠেকানো সম্ভব হয়। তাদের লড়াকু ব্যাটিংয়ে কলকাতা টেস্ট গড়ায় তৃতীয় দিনে। 

গতকাল ৫  উইকেটে ১৪৭ রান তুলে দিন শেষ করে বাংলাদেশ।

আজ শেষ হওয়া টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে ধোলাই করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও পাকপোক্ত করেছে ভারত। আগেই তারা শীর্ষে ছিল। 

আজকের পর ৭ ম্যাচে ৭ জয়ে তাদের পয়েন্ট সংখ্যা ৩৬০। এক ম্যাচ কম খেলা অস্ট্রেলিয়া ৩ জয় ২ পরাজয় এবং ১ ড্র নিয়ে আছে দুইয়ে। তাদের পয়েন্ট ১১৬। 

ভারত চলে গেছে একেবারে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তিনে থাকা নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট মাত্র ৬০। অবশ্য মাত্র ২ ম্যাচ খেলে ১টিতে জয় এবং অন্যটিতে হেরেছে তারা।

কলকাতা টেস্টে এক ইনিংস এবং ৪৬ রানের ব্যবধানে পরাজয়ের পর এই পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান অনুমান করা কঠিন নয়। ৮ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকা। 

তাদের মধ্যে পয়েন্টের কোনো ব্যবধান নেই; কারণ দুই দলই সবকটি ম্যাচ হেরে কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশের চেয়ে ১ ম্যাচ বেশি খেলায় পেছনে পড়ে গেছে।

 ৬ এবং ৭ নম্বরে থাকা পাকিস্তান এবং উইন্ডিজের নামের পাশেও কোনো পয়েন্ট যোগ হয়নি।

আপনার মন্তব্য