মানসিক অসুস্থতার অর্ধেক শুরু কৈশরে

19
মানসিক অসুস্থতার অর্ধেক শুরু কৈশরে

তারুণ্য ডেস্ক: সব মানসিক অসুস্থতার অর্ধেক শুরু হয় ১৪ বছর বয়সে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা অবহেলিত থাকে। বয়ঃসন্ধিকালে রোগের বোঝার পরিপ্রেক্ষিতে বিষণ্ণতা তৃতীয় প্রধান কারণ। ১৫-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যা মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ।

বয়স্কদের মধ্যে অ্যালকোহল এবং অবৈধ ওষুধের ক্ষতিকারক ব্যবহার অনেক দেশে একটি প্রধান সমস্যা এবং এটি অনিরাপদ যৌন বা বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণ হতে পারে। এ তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়স থেকে মানসিক স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করার জন্য অনেক কিছু করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের বা নিকটজনদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। যাতে বয়ঃসন্ধিকাল ও বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মানসিক সমস্যা এবং অসুস্থতা প্রতিরোধে এবং মানসিক অসুস্থতা থেকে রক্ষা ও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

বিশেষ করে বাবা-মা এবং শিক্ষকরা তাদের বাড়িতে এবং স্কুলে প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়তা করতে শিশু এবং কিশোরদের জীবন নির্বিঘ্ন করতে সাহায্য করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৯০ ভাগ সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ও গেমার ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়েসী। গবেষকদের মতে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে অতিরিক্ত স্মার্টফোনের ব্যবহার। গবেষণার জরিপের তথ্য অনুসারে দেশে কিশোর-কিশোরীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে।

বিশেষ করে অনলাইনে গেমসে আসক্তদের সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি বেশি। সাইবার বুলিং হচ্ছে অনলাইনে কোনো শিশুকে প্রলুব্ধ বা হেয়প্রতিপন্ন করা, ভয়ভীতি দেখানো এবং মানসিক নির্যাতন করা- যা পরবর্তীতে ওই কিশোর-কিশোরীর মানসিক স্বাস্থ্যকে অসুস্থ করে তোলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের প্রতি ৬ জনে ১ জন মানসিক রোগে আক্রান্ত। মানসিক রোগ সাধারণত ১৪ বছর বয়সে শুরু হয়, যা প্রাথমিক অবস্থায় পরিলক্ষিত হয় না। অবসাদগ্রস্থতা এ রোগের প্রধান লক্ষণ।

যে কারণে এ বয়সী মানুষদের আত্মহত্যা দিনকে দিন বেড়েই চলছে- যা বিশ্বের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। তাছাড়া এ বয়সীদের বেঁচে থাকলেও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে বাঁচতে হয়।

যৌন সমস্যাও কিশোর-কিশোরীদের আরেকটি প্রধান মানসিক সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়ঃসন্ধিকালের শুরু থেকেই কিশোর-কিশোরীরা যৌন সমস্যায় ভুগতে শুরু করে। এ সময় তারা যৌন বিষয়ে অপবিশ্বাস বা ভুল ধারণা গ্রহণ করে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা এ থেকে মুক্তি পেতে রাস্তায় যৌন ওষুধ বিক্রেতা এবং কবিরাজদের স্মরণাপন্ন হয়। এতে করে রোগ তো সারেই না বরং দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করে। ফলে রোগীরা মানসিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সমস্যা স্থায়ী রূপ লাভ করে।

কিশোর-কিশোরীদের মানসিক রোগের বিবরণ দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, মানুষ একেবারে পাগল হয়ে গেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাকে ওষুধ দিয়ে সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু মানসিক সমস্যা যদি শারীরিক সমস্যায় রূপান্তরিত হয় তাহলে সেটা ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়ায়।

কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা বেশ লক্ষ্য করা যায়। এটাকে বলে কনভারশন ডিজঅর্ডার- যার কোনো নিউরোলজিক্যাল কারণ নেই। যেমন রোগী মনে করছে সে হাঁটতে পারে না। তাই ধীরে ধীরে তার মস্তিষ্কের এমন নির্দেশনার কারণে তার পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ সাইকোলজিক্যাল টু ফিজিক্যাল ডিজিস।

এ ধরনের মানসিক সমস্যা থেকে এ বয়সীদের নিরাপদে রাখতে অভিভাবকদের ভূমিকাই মুখ্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মানসিক রোগ বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফাতেমাতুজ্জোহরা বলেন, আমরা এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। সাধারণত মস্তিষ্কের নিউরো ট্রান্সমিটারের তারতম্যের কারণে এ ধরনের রোগ হয়।

এসব রোগী একটা কাজ বারবার করতে থাকে। পরিবারে বাবা-মায়েরা এ রোগ প্রথমে মূল্যায়ন করতে চান না। এছাড়া অনেক অভিভাবক সন্তানদের বেশি স্বাধীনতা দেন। তারা বাস্তবতা বা পরিস্থিতি বুঝতে চায় না। ক্রমে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

আবার কিছু সন্তান অতিরিক্ত শাসনে রাখা হয়। ফলে তারা হীনমন্য হয়ে বেড়ে ওঠে। বাবা-মাদের এসব বিষয় বিবেচনা করে সন্তানদের গড়ে তোলা উচিত। মূলত সন্তানকে মূল্যায়ন করা উচিত, কিন্তু নিয়ম-নীতির ভেতর থেকে। সামগ্রিক বিষয়ে

বিএসএমএমইউ’র মানসিক রোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব জানান, দেশের মানসিক রোগীদের একটি বড় অংশ যৌন সমস্যায়ও আক্রান্ত।

সূত্র: যুগান্তর

আপনার মন্তব্য