স্টার্টআপ শুরু করা তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রতি ৬ টি পরামর্শ

32
স্টার্টআপ শুরু করা তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রতি ৬ টি পরামর্শ

তারুণ্য ডেস্ক: তরুণ উদ্যোক্তাদের সিংহভাগই প্রচন্ড উদ্যম নিয়ে স্টার্টআপ শুরু করেন। তারপর কিছুদিনের মধ্যেই বেলুনের সূক্ষ্ম গোপন ছিদ্র দিয়ে সব প্ররণা উড়ে গিয়ে চুপসে যান।

সমস্ত পুঁজি খুইয়ে প্রচন্ড হতাশা নিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসেন। অধিকাংশ তরুণ উদ্যোক্তার প্রথম স্টার্টআপের দশা এমন হয় কেন?

কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে পড়া এক ছাত্র আমার কাছে তার জীবনের প্রথম স্টার্টআপ শুরু করার ব্যাপারে পরামর্শ চাইলো। বিশ্ববিদ্যালয় সেমিস্টার ব্রেক আর ঈদের ছুটিকে কাজে লাগাতে সে একটি ভ্রাম্যমান টি-শার্ট শপ দিতে চায়।

আমি জানতে চাইলাম, তুমি টি-শার্ট তৈরির প্রক্রিয়া জানো? তাছাড়া তুমি নিজে কখনো এমন কোনো ভ্রাম্যমান দোকান থেকে টি-শার্ট কিনেছ? আমার দুটো প্রশ্নেরই সে জবাব দিয়েছিল, “না”। তারপর আমি তাকে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলাম।

সেই পরামর্শগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি।

প্রথম পরামর্শ: জানুন

স্টার্টআপ শুরু করার জন্য এমন কোনো ব্যবসা নির্বাচন করুন যা সম্পর্কে আপনি জানেন। অন্য কারো সাফল্য দেখে সেই ব্যবসা শুরু করা ঠিক নয়, কারণ একই কাজ না জেনে করতে গেলে আপনি ব্যর্থ হতে পারেন।

ধরা যাক, আপনি চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোনো প্রতিষ্ঠান শুরু করতে যাচ্ছেন। অথচ আপনি ট্যানারি শিল্পের কিছুই জানেন না। এক্ষেত্রে আপনার প্রথম কাজ এই শিল্প সমন্ধে ভালোভাবে জানা। প্রয়োজনে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন চাকরি করুন। তাহলে ঐ ব্যবসা সমন্ধে আপনার ধারণা পোক্ত হবে। ব্যবসার ঝুঁকি কমবে।

দ্বিতীয় পরামর্শ: টেকসই রোজগার

স্টার্টআপ হিসেবে এমন ব্যবসা নির্বাচন করা উচিত যাতে টেকসই আয়ের সম্ভাবনা আছে। টেকসই আয়ের ধারণা আপনার কাছে নতুন মনে হতে পারে। যেসব ব্যবসায় লোকসানের সম্ভাবনা কম থাকে এবং সমৃদ্ধি ক্রমশ বাড়তে থাকে, একই সাথে ধারণা করা যায় যে এই রোজগার স্থায়ী হবে, এমন রোজগারকে টেকসই আয় হিসেবে ধরা যায়। সুতরাং তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার ব্যবসা না ভেবে টেকসই আয়ের ব্যবসা পরিকল্পনা করা উচিত।

তৃতীয় পরামর্শ: নিজস্ব বিনিয়োগ

শুরুতে সবসময় নিজে বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করা উচিত। তাতে কোনোভাবে পুঁজি নষ্ট হলে তার জন্য কোনো বিনিয়োগকারীর কাছে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হয় না। অল্প হোক তবুও সম্পূর্ণ বিনিয়োগ নিজের হলে ব্যবসাটা নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে গড়ে তোলা যায়।

তবে পারিবারিক বিনিয়োগ অবশ্য এই সতর্কতার আওতায় পড়ে না। কেননা পরিবার হলো পৃথিবীর একমাত্র ব্যাংক যেখান থেকে বিনা জামানতে, বিনা শর্তে, সাধ্যমত অফেরতযোগ্য ধার নেওয়া যায়। কাজেই নিজে বিনিয়োগ করে অথবা পরিবার তথা অভিভাবকের কাছ থেকে বিনিয়োগ নিয়ে ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে।

চতুর্থ পরামর্শ: অল্প বিনিয়োগ

অধিক পুঁজি নিয়ে কখনো স্টার্টআপ শুরু করা উচিত নয়। তাতে পুঁজি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অল্প অল্প করে প্রয়োজন মতো বিনিয়োগ করুন আর ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। ছোট লক্ষ্য পূরণ হলে তারপর অবস্থা বুঝে আরেকটু বেশি বিনিয়োগ করুন। এভাবে ধীরে ধীরে এগোলে ব্যবসা টেকসই আয়ের মুখ দেখে।
পঞ্চম পরামর্শ: বিনা খরচের বিপণন

মনে রাখবেন ব্যবসায় সাফল্যের প্রধান একটি অনুষঙ্গ হলো যোগাযোগ। শুরুতে যেহেতু বেশি বিনিয়োগ করা উচিত নয়, কাজেই বিপণনের জন্য অধিক বাজেট রাখাও ঠিক নয়। এক্ষেত্রে নিজের যোগাযোগ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার বিপণন করতে হবে। স্টার্টআপ বিজনেসের ক্ষেত্রে গতানুগতিক মার্কেটিং কৌশলের চেয়ে যোগাযোগ কেন্দ্রিক মার্কেটিং বেশি কার্যকর। সরাসরি ভোক্তার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করুন। সামাজিক যেগাযোগ মাধ্যম, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ অথবা যেভাবে সম্ভব হয়, যোগাযোগ করুন। তাতে ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে খুব দ্রুত।

ষষ্ঠ পরামর্শ: নেতৃত্বের গুণাবলী

ব্যবসা করতে গেলে নেতৃত্বের গুণ থাকতেই হবে। নেতৃত্বের গুণ না থাকলে নেতা হওয়া যায় না। আপনাকে অবশ্যই চিন্তা, দর্শন এবং কাজে অন্য কর্মীদের চেয়ে বেশি ইতিবাচক হতে হবে। সাম্প্রতিক সময়, চারপাশের জগৎ, অন্যদের ব্যবসা, দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি সম্বন্ধে ধারণা থাকতে হবে।

প্রচুর পড়াশোনা, মানুষের সাথে যোগাযোগ, নতুন নতুন গবেষণা দিয়ে নিজের মধ্যে নতুনত্ব আনতে হবে। নতুন নতুন ধারণা, পদ্ধতি, দর্শন নিজের কর্মীদের সাথে শেয়ার করতে হবে। এতে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কর্মী এবং ভোক্তাদের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশ বাড়বে।

মনে রাখতে হবে, গতানুগতিক কাজ করে কখনো প্রতিষ্ঠানকে একঘেয়ে করে তোলা যাবে না। নিজের পরিকল্পিত ব্যবসা সম্বন্ধে ভালোভাবে জেনে, টেকশই আয়ের ভাবনা মাথায় রেখে, যথাযথ বিনিয়োগ নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে কোনো ব্যবসা শুরু করলে, আপনার নেতৃত্বের গুণে সফল হওয়া সম্ভব। সুতরাং এসব বিষয় মাথায় রেখে নেমে পড়ুন নতুন ব্যবসায়, সাফল্য আসবেই।

সূত্র: ইয়্যুথ কার্নিভাল

আপনার মন্তব্য